Saturday, September 7, 2019

কুয়াশার রাতে কে সে ? // শর্মিষ্ঠা গুহ রায়(মজুমদার)

কুয়াশার রাতে কে সে  ?   //    শর্মিষ্ঠা গুহ রায়(মজুমদার)

 
সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথম যে খবর টা শিখা শুনল তা শোনামাত্রই সে শিউরে উঠল।পাড়ার এক নির্মীয়মান বহুতলের নাইটগার্ড ভদ্রলোক গতকাল রাতে নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন।পুলিশ আর কৌতূহলী লোকে ভরে আছে গোটা চত্বর।।

    সকাল সাড়েদশটা বাজে ঘড়িতে।তড়িঘড়ি রেডি হয়ে শিখা স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হল।একটার পর একটা পিরিয়ড চলে যাচ্ছে।শিখার ক্লাসে মন বসছে না।কখন ছুটি হবে এই ভেবে যাচ্ছে সে।ঢং ঢং ঢং ঐ ছুটির ঘন্টা বাজল।ক্লাস টুয়েলভের ক্লাসরুম টা তিনতলাতে। সে আর সময় নষ্ট করল না।তিনতলা থেকে দৌড়ে নীচে চলে এল।সোজা বাড়ির দিকে রওনা হল।।

     বিকেলেও পাড়াতে সেই এক আলোচনা চলছে।সারা পাড়া কেমন জানি নিস্তব্ধ হয়ে রয়েছে।শীতকাল তাই সন্ধেটাও ঝপ্ করে নেমে এল।সন্ধ্যে সাতটায় স্যারের বাড়িতে  পড়তে যেতে হবে।আজ শিখার যেতে ভাল লাগছে না।কেন জানি ভয়ভয় করছে।তাও যেতে হল।সামনেই পরীক্ষা,না গেলে নয়।।

   স্যার একবার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন কী হয়েছে তাদের পাড়াতে।শিখা আমতা আমতা করে অনিচ্ছা সহকারে ঘটনাটা বলল।পড়া শেষ,এবার যাওয়ার পালা।বাইরে প্রচণ্ড কুয়াশা পড়ছে।তার সাথে আচমকা লোডশেডিং।অনেকের বাড়ি থেকে নিতে এসেছে।কী ভাগ্যবান তারা।কয়েকজনের সাথে শিখা হাঁটা শুরু করল।গলির মোড় ঘুরতেই তারা অন্য রাস্তা নিল।।

    বড় রাস্তা পার করে শিখা একটা শর্টকাট রাস্তা নিল।কিছু দূর যাওয়ার পর ও বুঝল বড় ভুল করে ফেলেছে।যাহোক খুব সাহস করে ও হাঁটতে শুরু করল।সকালের ঘটনাটা ওর মাথার মধ্যে তখন খালি ঘুরছে।কেন জানি মনে হচ্ছে ঐ লোকটাকে ও দেখতে পাচ্ছে।কীসব ভুলভাল চিন্তা!ধূর এসব ও আর চিন্তা করবে না।কিন্তু না তো, ও তো সত্যি একটা লোককে সামনেই কিছুদূরে কুয়াশার মধ্যে দেখতে পাচ্ছে।

একবার রাস্তার একদিকে আবার রাস্তার ঐদিকে।না না ভুল দেখছে ও।কিন্তু সাদা জামা পড়া লোকটা কেন জানি ওর কাছাকাছি চলে এসেছে।হাত নেড়ে কিছু বলছে মনে হয়।কী ঘন কুয়াশা!মুখটাও দেখতেও পাচ্ছেনা। আর সহ্য করতে পারছে না ও। চোখ বন্ধ করে শিখা ছুটতে থাকে। শুধু ছুটতে থাকে।।

       রাস্তা আর শেষ হচ্ছেনা।শিখা ধাক্কা খেল কারো সাথে।'হে ভগবান!' বলেই খুব সাহস করে ও চোখটা খুলল।'কীরে ছুটছিস কেন এভাবে রাস্তা দিয়ে?' কথাটা শুনেই ওর ধড়ে প্রাণ ফিরে এল।এতো বাবা দাঁড়িয়ে,শিখার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল-'ও বাবা তুমি?'।।

      তীব্র শীতেও শিখার ঘাম ঝরছে।প্রায় চেঁচিয়েই বলল-'বাবা,আমি কাউকে দেখেছি,আমার আগে আগে  কেউ কেমন করে হাঁটছিল। আমা--র ভা--লো লাগছিল না।' বাবা দূরে তাকিয়ে বললেন -'ধূউউউর,ও কিচ্ছুনা,তুই সকালের ঘটনাটা নিয়ে বোধহয় বেশী চিন্তা করে ফেলেছিস।তাই উল্টোপাল্টা ভাবছিস।' শিখা আর কিছু বলল না।


বাবার পিছু পিছু চলতে শুরু করল।কিন্তু বারবার ও পিছন ফিরে দেখতে লাগল।ঐ দূরে ঘন কুয়াশার অন্ধকারে তখনো যেন কেউ খুব কষ্ট করে হেঁটে আসছিল।তবে সত্যিই কী কেউ ছিল?সত্যিই কী লোকটা কিছু ওকে বলতে চেয়েছিল?নাকি সে চোখের ভুলই ছিল?।।