Wednesday, September 4, 2019

বাংলাদেশের কবি খালেদ উদ-দীন এর “নৈঃশব্দ্যের জলজোছনা" কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোকপাত করলেন কবি তৈমুর খান ।

অনুভূতির এক গীতল প্রবাহ


অনুভূতির এক গীতল প্রবাহ

খালেদ উদ-দীন (১৯৭৮) “বুনন”পত্রিকার শুধু একজন সম্পাদকই নন, তিনি একজন ব্যতিক্রমী কবিও। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কবিদের প্রথম সারিতে তাঁকে রাখা যায়। “নৈঃশব্দ্যের জলজোছনা”  (২০১৮) কাব্যগ্রন্থটি আমাকে রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠিয়েছেন বলে তাঁকে পাঠ করবার সৌভাগ্য হল। আমি কৃতজ্ঞ। অভিভূত।

প্রায় ৪০ টি কবিতায় তিনি অনুভূতিকে ভাবনার গীতল প্রবাহে অভিষিক্ত করে তুলেছেন। সহজ কথায় এক গভীর আন্তরিকতার মর্মসঞ্চারী অভিক্ষেপ প্রতিটি কবিতাকে বিশিষ্টতা দান করেছে। কাব্যের প্রথম কবিতায় বাড়ির কাছে ছোট নদীর উপরে একটি সাঁকোকে কবির “এতিম” মনে হয়েছে। তেমনি এক কিশোরীর সঙ্গে সাঁকোর প্রণয় উপলব্ধিটিও প্রাণ স্পন্দনে জাগরিত আত্মোন্মুখের প্রকাশ।

কিন্তু কবির দার্শনিক বোধটি তখনই সমূহ বিশ্বাসে পূর্ণতা পেয়েছে যখন “এই সাঁকো পুলসিরাত হয়ে ঝুলে আছে —  যুগ থেকে মহাকালে।” মহান স্রষ্টার প্রতি এই প্রগাঢ় বোধই সমূহ সৃষ্টিকে “মখলুকাৎ”এ উন্নীত করেছে। কাব্যের শেষ কবিতায় জন্ম পরবর্তী জীবনের আয়ুর প্রান্তরে হেঁটে যাওয়া যে গন্তব্যহীন এবং অনন্তে বিলীন হওয়া — তা কবি জানেন।
সব মোহটান মুছে দেওয়া এই দার্শনিক বোধটি কিন্তু কবিকে ক্লান্ত করে দেয়নি। “প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে বড়ো বেশি ম্রিয়মাণ” মনে হলেও কবি সবকিছুর ঊর্ধ্বে যেতে পেরেছেন। বিখ্যাত লেখক উইলিয়াম জেমস্ একেই হয়তো বলেছেন : “Be not afraid of life. Believe that life is worth living, and your belief will help create the fact.” কবিও বলেছেন : “ এই ধুলোঝড় থামবে —  অনাগত দিনে আসবে সুদিন।”
এই সুদিন আসবেই, যতই শূন্যতা, শ্মশান, ফানুস হয়ে থাক আমাদের আয়োজন।