Sunday, September 29, 2019

উমা আসে ঘরে ঘরে ----- সুমিত মোদক

Sumit Modak


আকাশে এখন রঙের খেলা 
রামধনু রঙ আঁকা ;
বাতাসে এখন ফুলের সুবাস
আদর সোহাগ মাখা ;


চু-কিৎ-কিৎ খেলতে খেলতে ,
বউ-বাসন্তী খেলতে খেলতে ,
একদিন মেয়েটা বউ হয়ে চলে গেল
অন্য এক পাড়ায় ;
যে পাড়া দিনে কেউ চেনেনা , চেনে সন্ধ্যা-রাতে ;


যে বাড়িতে সন্ধ্যা নামতে না নামতে অন্ধকার নামে ,
আর দিনের আলো ফুটতে না ফুটতে পেটে টান লাগে , 
সে বাড়িতে মেয়ে হয়ে জন্মানো যে কত কষ্টের ,
সেটা মা ছাড়া কে বা বুঝবে !
তাই , তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে পারলেই শান্তি ;
অন্তত , দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পড়ে বাঁচবে ;


মায়ের আঁচল যেই ছেড়েছে হাত ,
সারাটা শরীর পুড়ে পুড়ে খাক ;


বিয়ের নামেই পাচার হল মেয়ে ,
ঠাঁই হল তার অন্য রাজ্যে গিয়ে ;


অজ পাড়া-গাঁর হা-ভাতে ঘরের মেয়ের খবর 
কে বা রাখতে চায় !
কে বা খুলে দেখতে চায়  এ সভ্যতার , 
এ সমাজের দগদগে ঘা !
তাই , অন্ধকারে চাপা পড়ে থাকে হাজার হাজার 
সহজ-সরল-আটপৌরে মেয়ের করুণ কাহিনী ;


এই বাদাবনের কাদাজলে , 
এই জল-জঙ্গলের দেশে কত মেয়ে যে
 হাতফিরি হতে হতে চলে যাচ্ছে অন্য পাড়ায় ;
কখনও বিয়ের নামে , কখনও বা কাজের নামে 
তার হিসাব নেই ;
হিসাব নেই মানবতাবাদী নামক মানুষ গুলোর কাছে ,
এ সমাজের কাছে , এ দেশের কাছে ;


পড়ে থাকে মেয়েবেলা খেলার উঠান জুড়ে ,
ঝরে পড়ে মায়ের কান্না শরতেরই ভোরে ;



শরীরে মারনব্যাধি নিয়ে ফিরে আসে ;
ফিরে আসতে হয় মায়ের কাছে ;
মারনব্যাধি ধরলে ওপাড়া আর রাখে না ;
ফিরিয়ে দেয় হাতে কিছু গুঁজে দিয়ে ;
অথচ , ও পাড়াটাই মারনব্যাধির বীজ বোনে
রাতের পর রাত , দিনের পর দিন ;
আর আমার জল-জঙ্গলের দেশ ফিরিয়ে নেয় 
তার মেয়েদের ,  উমাদের ক্ষত চিহ্ন ;


যে কদিন বাঁচে শালুক ফুলে বাঁচে ,
যে কদিন বাঁচে কাশ ফুলে বাঁচে ;


উমা আসে ঘরে ঘরে মহালয়ার পরে ,
পাড়া-গাঁর উমরা সব ঘর আলো করে ।।