বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Friday, January 11, 2019

কুয়াশারা বাসা বাঁধে দু'চারটে মনে // মাধব মন্ডল

👅

হায় !
.
পাখি বড় হয়ে গেলে
ভুলে তো যায়ই তার বেড়ে ওঠা
শুধু কখনো কখনো তাই
ছুটে আসে দিতে খোঁটা!

ডানায় শীতের বাসা
মনে মনে স্মৃতি ঘাঁটা
দিন চলেছে রাতের কাছে
অবশই অস্থির পা টা।

সোনালী রোদ আর ডাকে না
চোখের কোণেতে পিঁচুটির ড্যালা
মন আর ঘাম অপাত্রে ছড়িয়ে
এবার বুঝছে পাখি ঠ্যালা।
.

জঞ্জাল
.
এই সব হরিধ্বনি কানে ঢোকে শুধু
উদাস করে না আর
এরচেয়ে সারা গায়ে মাংস ঝোলা
স্টেশনের মাংস ঝোলা মানুষটা ভাবায়।
ধাপে ধাপে বাড়া হিংসা চাটে
হিংসা চাটে অসুখ হরিদাস।
আদি গঙ্গার পাড়ে দুর্গন্ধ জঞ্জাল
সম্মীলিত বাজার জঞ্জাল!
.
.
রক্ত জমে কুয়াশায় - ৩
.
বাড়ন্ত কুয়াশায় ঘোলা ফোলা চোখে একা একা দাঁড়ালাম
সব রোদ সব তাপ ন্যাকা বাঁকা শিরদাঁড়া একে একে ভাঙলাম
কুয়াশায় কুয়াশায় রক্ত জমেছে কুয়াশায় মন কুয়াশায়।
আমাদের কোনোকালে কোনো মনে কোনোদিন জায়গা মেলেনি
শয়ে শয়ে প্রতিশ্রুতি উড়ে যায় কালো পা বকের মত
আদি গঙ্গা চুপচাপ, পড়ে থাকে অবাক কুমারী!
ভালবাসা বলে প্রেম বলে শরীরের অন্ধিসন্ধি
যে কুমারীরা চিনিয়েছিল তারা একা একা অভিমান পোষে আজো
বহু বিবাহী পুরুষ তুমি দাবি মতো পারো না সায়ানাইড দিতে।
সব ইঙ্গিত চোখে মাখামাখি রাত খুঁজে ফেরে
সব কিছু মোজে পোচে বিষাক্ত গ্যাসের আকারে হিলহিলে
আমাকে রক্ত মাখাও কুমারীরা অনেক অফুরান ঘাটে মাঠে।
.
.
রক্ত জমে কুয়াশায় - ৪
.
সাহসী কুমারীর চোখের ভেতর এক চোখ থাকে
সেই চোখ ঝোড়ো হাঁক
ঘাট মাঠ উল্লাসে  দাঁড়ায়
মিছিল থেকে ছুটে আসে অশান্ত বাহু
মনের মধ্যে কেত্তনখোলা
একটু দূরেই চোদ্দ পুরুষ আমার কুয়াশায় মিশে থাকে।
ও কুমারী তোর নরম নরম পায়ে সুর
গায়ে দুব্বো সুবাস
ভূত্বকে পুংলিঙ্গ মানুষ হল
তোর পায়ে পড়ে
দেহি পাদপদ্ম মুদারম......
তারপর....
পেয়ারার ডালে ডালে, নিমের পাতায়
ঘামপোড়া মিছিলের লালে
অঝোরে বৃষ্টি নিরাময় বন্যা
আদি গঙ্গা তোর ঘাটে আজও
ভূতের মত উড়ে উড়ে অর্জুনের ছাল তুলি
তুই কখন আসবি এখানে এই কেত্তনখোলায়
এইখানে চৈতন ঠাকুরের মত?
আমার পূর্বপুরুষদের যাস বলে।
..
.

রক্ত জমে কুয়াশায় - ৫
.
এ মুখ ও মুখে রাখতে দিয়েছো সেই কোন ফুলখেলা বয়সে
এ মুখে কি ঘুরিয়ে ঝামটা দিতে পারি!
তারচেয়ে যদি এ মুখ রাখি ঐ পাদপদ্মে,
ধন্য ধন্য করে উঠবেই ভূত্বকের সব কুমারী
বলো বলো বলো
না হয় আমিই নামি কাজে
সামনে বঙ্গোপসাগর?
কাউকে মানি না
যদি পাই তোমাকে আবার কাছে
হেরো ভূত হবে
আদি গঙ্গার ওপারে পাঠাব
বিদ্যাধরীর ঘূর্ণিতে।
আর কিসে ভয় তোর?
এখানে ঘাটে বস
ধীরে ধীরে হিল্লোল ছন্দে নাড়া জল
আমি বসে থাকি অফুরন্ত সময় পকেটে পুরে
আয় আয় আয়
সব কুমারী গর্বে তোরে কুর্ণিশ ঠোকে।
.
.


রক্ত জমে কুয়াশায় - ৬
.
হায় প্রেম, হায় ভালবাসা, আর কী দেখার থাকল বা বাকি?
গা পোড়া রোদ বেলায় ঝিঁঝিঁ ডাকা রাত নামে, তুমি তো স্তব্ধ,
জাম কালো তেঁতুল তলায়।
ওখানে এখন কুমারী মোচ্ছবে জন্মালো মায়া হরিণেরা,
আদি গঙ্গার পাড়ে পাথরের পায়ে খাড়া একা একা,
আমি কবে পালাতে চেয়েছি, কোনকালে? বল মায়া হরিণেরা, বল!
এত কান্না পেরিয়ে এসে দেখি, ও আদি গঙ্গা, সামনে সাগর, হায়!
পিছনে মায়া হরিণ, সামনে সাগর,
এত কাল যা করেছি সব ধোঁয়া সব শূন্যে মেলায়, হায়! হায় প্রেম,
হায় ভালবাসা, বিদ্যাধরীর পোয়াতি কামোটে
মানুষের এ কান্ড দেখে ভক ভক হাসে!
ভূত্বকে মনের ভুলে শকুন্তলা জন্মেছিলে,
একালে আমার মতো কোথাও কেউ কেউ,
ভালবাসা চেয়ে হাপুস হাপুস কত কাঁদে আজো,
মায়া হরিণেরা, লিখিত বিবরণ পড়েও এত স্তব্ধ থাকো কেন !
দেখ কেমন পাথর পা হল, দেখ দেখ,
তোমরা কেমন দলবেঁধে হাসাহাসি করো,
বুকের বাঁদিকে কেমন যেন একটা চাপা চাপা চাপ,
ধীরে ধীরে সেখানে রক্ত জমে, বোঝো?
খিলখিল হরিণীরা, নিজের খেয়ালে চলা হরিণীরা,
মায়া হরিণীরা, দূর থেকে তোমাদের ছলন বলন বড় ভাল,
এই এখন যেমন পাথর পায়ে দেখছি, এই ভাল বলো,
সামনে থাকল শুধু চিমনির ধোঁয়া ছাড়া কেত্তনখোলা।
.
.
রক্ত জমে কুয়াশায় - ৭
.
জাঁকালো হরিণেরা খায়? কী খায়? দেখিনি তো !!
ভোর রাতে সম্মীলিত আঁকাবাঁকা বাহারে শিং তুলে কাকে ডাকে ওরা?
আমাকে দুষ্মন্ত ভেবেছে? ও আদি গঙ্গা, বল না, মনে ঢুকুক এক চিলতে সকালিক রোদ।
নাড়ি পর্যন্ত শুকিয়ে এল, জল দাও কেউ, শুধু জল,
দু'চোখ স্পর্শ উল্লাসে কাঁদুক আরো কাঁদুক,
আমি গলে গলে ঘাসের শরীর পাই,
কোনো কুমারী এসে বসুক সশব্দে, আমি বেঁচে যাব তার প্রেমের রহস্যে।
ভূত্বকে কেউ কোনকালে আয়োজনে, বিলাসে,
আরামে ভালবাসা পায় নি,
ওখানে পাঁকের গন্ধে কুমারীরা নাক ঢেকে পালিয়েছে সেই কোন কালে আদমের যুগে
এই কথা ক'টা আবার বলো আমার ঘাসের শরীরে, বল বলবে না?
এই যে দেখছো ঘাসের শরীর, আদি গঙ্গার পাড়ে পাড়ে,
এখানে আমি আছি না দেখা রত্নের খোঁজে,
কবে থেকে আরো আরো পিপাসা এখানে ঝাঁকিয়ে বসল,
এ হিসাব মনে হয় শকুন্তলার আংটি গেলা সেই আদি মাছ জানে।
সবকিছু তালগোল হয়ে গেলে সেইসব মাছেরা,
আমার মতো নরম নরম ঘাসেরা উঁকি মেরে হৃদয়ের রোদ,
তাপ, জল, হাওয়া মাপে, হয়তো কাঁপনে
কাঁপনে আমারই মত শিহরণ খেলে যায় তাদের শরীরে।

.
.
রক্ত জমে কুয়াশায় - ৮
.
.
বাজুক সশব্দে, কানের মধ্যে ধাঁ ধাঁ করুক।
তোর কথা যেটা আমার অমৃত সুর সেই কথা সেই সুর বাজুক।
আমি বসে আছি বুড়ো তেঁতুল গাছটার মত।
কান বরাবর কত নাচানাচি, বিদায়েও আকন্ঠ মদ, মাংস, বমি।
লোমকূপে ডিজের করাত কাটা, কে কাকে কাটে, হাসপাতালে শব্দ প্রতিবাদী।
তোর ছবি চোখে এঁকে বিদ্যাধরীর চর থেকে আজ আদি গঙ্গায়।
শব্দ শোনা, নিঃশব্দের সশব্দ সুর, শুনতে শুনতে অর্জুনের তলায় চোখ ঢুলে যাক।
ঘাটের পাছায় বস এসে ধীরে, আমার মন কেমনের অ্যান্টিবায়োটিক।
আয় শব্দ আয় তুই নিস্তব্ধতা ভাঙ সজনের
ডালের মত মড়াৎ মড়াৎ, আয় শব্দের মত কথা, সুর, আয় আয় আয়!
তোর মেঘের মত কোলে মাথা রাখি, তোর বিলি চই চই আদর পড়ুক হুমড়ি খেয়ে।
আমি সার্থক হই, তোর মধ্যে লোপ পাই,আয় আয় আয়......

.
.
.
রক্ত জমে কুয়াশায় - ৯
এত এত হেলা এত দুয়ো চারদিকে
চুপচাপ বসে একেবারে চুপচাপ।
এত ভেদাভেদ এত শিরদাঁড়া ভাঙা
এত বীজ পোঁতা এত নদী নদী জল।
পিছনে তাকাই এত ভয় ভয় করে
কিছু দেখিস নি খেটে খাস বেঁটে লোক।
যদি ফেটে যেত ফাটলে তলিয়ে যাই
হে ভূত্বক প্রভু শুধু সীতা কেড়ে নিলে!
.
.
.

জেগে ওঠা
.
এখানে আকাশ দেখ
ডাক শোনো পাখিদের
এই ঘাটে চান কোরো
সব আগে বাকিদের।
এ জলে শপথ নিয়েছিল
কুমারীরা নরম নরম
প্রেম পথে বাধা পেয়ে গেলে
খবর হয়ে যেত হাতে গরম।
শরীর পোড়ে ঐ শ্মশানে
কাঁদে ঘর, ঘর কারিগর
এই ঘাটে চান করে সব
সাদায় শপথকারী পর।
এই পথে মাঠ ও জলের ধারে
নোনা মন রেখে কুমারীর খোঁজ
হামেশাই চালায় শরীর মন
কসরৎ, বেদবাক্যীর বোঝ।
এখানে গভীর সকালের আর রাত
কুমারীরা এসে হেসে গেয়ে দুয়ো মারে
ঘুম ভাঙে বোধের জেগে উঠে বাড়াই
এ পরাজয় অপমান বিনা বিচারে।

.
.

মানুষ
.
কুয়াশারা বাসা বাঁধে দু'চারটে মনে
একসঙ্গে বা ছাড়া ছাড়া
তারা সেকথা উহ্য রেখেই সংসারে।
উথুলপাথুল একপা দু'পা হাঁটে
কুয়াশা ফুঁড়ে স্পষ্ট দেখে নিজেদের
কাঁদে হি হি হাসে ফোঁত ফোঁত।
সেসব মন তবুও গাছ পোঁতে
স্বপ্ন ছড়ায় লতায় শিরায়
ফুল পাড়ে ফল খায় কচরমচর।
.

গুচ্ছ কবিতা
.
না কুড়ুল কাঁধও বিশ্বাস হারালো
নোনা বাতাস চকমকি জ্বেলে আজও ডাকে
বিদ্যাধরীর চর আর জলও চেনে অপরাধী।
নেশামাখা মাঝি আর গেরাপীও বোঝে সব
চারদিক চুপচাপ তবুও
শুধু হাহাকারে ওলঢাল মন ও স্রোত
চোলাই না খেলে হরি ডাক মুখে আসে না যে!!
চোরা স্রোতে খাবি খায় বোধ আর বুদ্ধি।
.
হারার কান্না আর জেতারও
পাশাপাশি একে অন্যকে জড়িয়ে।
শিশুরা কদাচিৎ বড় হতে চায়
হেঁতালের বনে বাঘ শুধু বড় হয়
শিকার ও শিকারী একসাথে বাড়ে।
হায় বাস্তবতা, হায় বাস্তবতা!!
এভাবেই ভেতরের মুঠো মুঠো অন্ধকার
তীর ছেড়ে জলে নামে বেড়ালের পায়
আর সাদাটে মাছের আঁশ গায়ে ঘসে
ঘোসে ঘোসে জল রঙ মাখে
কোনো মেঘ, কোনো মেধা হদিস পায়নি এর।
নিজেকে নিজের কাছে প্রতিদিন অবিশ্বাস্য হই।
.
কারা কারা কেনই বা সবুজ খায়?
কোনো কোনো শিশু কাঁদে ভোরবেলা।
পরগামী বউ এর কারনে প্রায় রাতে কাঁদে রাধাদা
তারপর নিজেই একটা কচিমত বিয়ে করে বসে
যায় দুঃখ ভেসে যায়, বিদ্যাধরী কাঁদে
আর আমাকে ক্যাওড়া ফুল ভাবে
বুকের ভেতরে বসায়, স্মিত হাসে।
এত মায়া, এত মায়া!!
হায়, অনিবার্য বিদ্যাধরী
তাই ফিরে ফিরে ফিরি তোর কোলে।
.
রাতটাকে বাঁকিয়ে দিন করি
আর রাতের মধ্যভাগকে ঝরেঝরে সকাল
এবং পাঁজরে পুষ্টি গুঁজি এক তিন দশ।
হে ঋষি, হে কামধেনু পালক
হে পূর্ব পুরুষ, হে গোছানো মেধাবী
দেখ এসে একালেও ফুল ফোটে,
অমৃত-গান ধরে পাখি।
শিরায় শিরায় জালিকায় জালিকায়।
সেদিনও যখন কেউ কাঁদেনি
হে শনির পূজারি, ব্যবসায়ী
মেসের কোন ফোতো কার্তিক যৌন টানে
তোর বউকে দু'দিনে বউ করে
শেষে কিনা সিলিং ভালবাসে।
সেদিনও কেউ কাঁদেনি, কি আশ্চর্য্য!!
.
এইতো আমি ফুলের পরাগে
নদীর ঢেউয়ে
ঝড়ের বাঁকে।
পতঙ্গের ডানার সুরে গানে
এই তো আমি!
ও গান আমাকে পোড়াও আরো
ও বেদবাক্য আমাকে দেখ
লক্ষ্য ছুঁয়ে রাখ আর
আমাকে ফসল দাও
লুকিয়ে যাই বীজের পাতায়।
.
.

আমি
.
আজ আপনাকে যদি বলি
যদি বলি চমৎকার লাগছে
আপনার খুশিগুলো সব
আইসক্রীমের মত গলগল।
যদি কথাগুলো এক থাকে
চোখ মন তোমার বশে না থাকে
এ আমি তখন তুই হই
এগোড় ওগোড় খাই তোর পায়ে
নোনাটে ঘামের গন্ধে তো
তোর নাক হয়ে যায় বিশ হাত।
আপনি তুমি তুই মানেনি
গোটা গোটা উত্তাপের বাঁধুনি
হড়কে হড়কে পাশ ফেরে
ভেংচিতে ভেংচিতে ঝালাপালা
প্রতিটা হেলাই তলপেটে
মুচড়ে মুচড়ে কামড়ে ধরেছে।
মোলায়েম সমাজের মত
গামছা ভিজিয়ে মোছাও জ্বরো গা
ভুল করে ভালবাসো বলে
পাল্টা প্রশ্ন রাখ এ ঘিলুতে।
কত অপূর্ণ সাধের কথারা
বিস্ফোরিত রূপকথার ঝাড়
তোমার অবাধ্য আঙুল
সশব্দে থাকো তুমি তুই
আহা কী উল্লাস তোমার
নলিটা বাড়াই নাও কাটো কাটো।
খন্ড খন্ড হতে হতে
বারবার বাড়ি পালাই পালাই
মুখে জিভে রক্তের স্বাদ বুঝি
বেপোরোয়া গানগুলো ভালবাসি
আই সি সি ইউতে নূপুর শুনি।
.
.


মৃত্যু লাফায়
.
এমনকি কাল দুপুরেও
ঠিক মুখে কিছু দেবার অল্প আয়ু ফাঁকটায়
শিরীষের মরা পাতার মতই
মৃত্যু ছুঁড়ে দিলে তুমি।
এমনটাই হামেশা তুমি করে থাক।
কোন গরমাগরম প্যাকেট আসেনি কালও
আমি ঠান্ডা খেতে খেতে নিজেই এক খন্ড বরফ
ছোটবেলার তুষের উনুন ধার আজ আর নেই
কি করব কি করব ভাবতে ভাবতেই
ছিটকে গিয়েছি ভূত্বকের বাইরে
মিথ্যা কুমার কুমারী নেই
দূষিত গঙ্গার জলে পুজোও নেই।
তোমার ছোঁড়া মৃত্যু আমাকে তাড়া করছে
তুমি ঠিকই বলেছ
হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই বলেছ
আমার মুখ এখন বাঁদর বাঁদর
তাই মৃত্যু ছুঁড়ে আর পেছন ফের না
শুধু মাকে বাঘ চিৎকারে ডাক।
স্মৃতি থেকে
.
.
                     
কেউ কেউ জানি
.
এখানে আমার স্মৃতিরা আটকে
ধূ ধূ দুপুরে একলা হবারও সময় ছিল না হাতে।
ক'টা ছাগল পুষেছে একলার সংসারে বামনি বুড়ি
ক'টা ছাগল পুষেছে
চোদ্দ বিঘের মাথায় গেলে বুড়ি ডাকে,গল্প জোড়ে।
খোট্টাদের,আমার বয়সি ছেলেটাও কত গল্প জানে
বলে বাবুরাও গরীব রে,ছেঁড়া লুঙ্গি পরে,
কাল রাতে যদিও তার পেটে পড়েনি ভাত,সেটাও জানায়!
তেঁতুলগাছটা সেবার কাটা পড়ল,এমনকি বেলগাছটাও
তরতাজা বউটা মরল যে
বিদ্যেধরীর চরে দাহ হল,সপ্তাহ না ঘুরতেই শালীকে বিয়ে!
সকালে ঘুঁটের ছাইয়ে দাঁত ঘষা,কোনো কোনো দিন নুন তেলে
হা হা হেসে দেখি ও দেখাই
ভালবেসে দিন যায় দড়ি দেওয়া প্যান্টে!
কেউ কেউ জানি
এখানে আমার স্মৃতি একা একা খেলে।
.
------------------------------------
.

No comments:

Post a Comment