বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Friday, January 18, 2019

লাশকাটা ঘরে - রণেশ রায়

লাশকাটা ঘরে   -   রণেশ রায়


কাল জ্যৈষ্ঠের রাতে প্রচন্ড গরম  
সারারাত গরমে ভিজে নেয়ে,
সকালে উঠে সাকারীপাড়া ধরে
পৌঁছে যায় ধর্মতলার মোরে,
ঝুপরিতে এক কাপ চা, আবার হাঁটা
সেখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে হাড়কাটা,
গলির মুখে বাঁক নেয়,  
কোথায় হারালো গাছটা ?
দিনে বন্ধু আত্মীয় পরিজন
রাতে দেহলুব্ধ  ব্যাপারীরা
আশ্রয় খুঁজতো যখন তখন,
কোথায় সেই আশ্রয়  ?
কাল রাতের ভয়ঙ্কর বজ্রপাতে
সমূলে উৎখাত, হায় !
পেঁচা ডাকছে দিনে
কি বার্তা বয়ে আনে
কিসের গন্ধ বাতাসে
কেউ নেই ধারে কাছে।

একটু এগিয়ে দেখা যায় ঘরটা,  
সে ঝুলে আছে ঘরে,
সেই পিশাচেরা
এসেছিল রাতে এই দো`রে।  

কেন এই আত্মহনন তার ?
তাতে কি আসে যায় কার !
সে কি  চায়নি আর বাঁচতে ?
পারেনি কি কাউকে ভালোবাসতে ?
সে কি যায় নি চোখের জলে ওপারে?
প্রিয়জনের পেটের জোগানে দিনে রাতে।
জানা নেই কার ঔরসে  
জন্ম দিয়েছে  সন্তানে,
জন্ম লগ্নে সে সন্তান
স্তনে মুখ গুঁজে
মাকে কি নেয়নি চিনে?
তার স্নেহের স্পর্শের  আবিরে
রাঙিয়ে তোলে নি  সন্তানকে ?
আত্মীয় বন্ধু পরিজন ছেড়ে
সকলের পেট ভরাতে
এইখানে অন্ধকার রাতে
চলে যেত সময়
রাতে দেখা হতো সঙ্গে যাদের  
কেউ নয় প্রিয়জন তারা
সে ছিল খোরাক তাদের।
ভোরে উদয়ের পথে
বার হয় সুকন্যার সসন্ধান
অধিকার মিছিলে,
মিছিলে শ্লোগানে শ্লোগানে                     
দাবি জানায় ন্যায্য পাওনার
আজ, এই কি পাওনা তার !
ভালোবেসেছিলো যে
সে আজ লুকিয়ে কাঁদে,
পারেনি বলতে সে,
সমাজ যে বক্র হাসি হাসে,
তাকে সে ভালোবাসে।
পাওয়া না পাওয়ার হিসেবে
সব গোলমাল আজ,
প্রশ্ন শুধু, অধিকার কি ছিল না তার
আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার ?

পুলিশ এসেছে  দৌঁড়ে,
নিয়ে যাবে  লাশকাঁটা ঘরে,
কীট পতঙ্গ মশা মাছি  অপেক্ষায়
আজ এই গোধূলি বেলায়
অশ্রু সিক্ত চোখে
দিতে হয় শেষ  বিদায়।

আরশোলা সোহাগে গাল চাটে
মশা এসে কানে কানে বলে,
দিও না  ধরা পিশাচের কলে,
ভনভনে মাছি আসে ফিরে ফিরে  
জানিয়ে যায় বারে বারে,  
সে ঘুমিয়ে চিরতরে,
আজ সে শান্তিতে ঘুমায়
জাগিও না তারে;   
আমরা আছি পাহাড়ায়,
তার  পাশে ইজ্জতের লড়াই-এ,
তুমি আমি হাতে হাত ধরে।
ভালোবেসেছিলো সে মানুষকে
তার স্নেহ স্পর্শ করত সন্তানের হৃদয়
খামতি ছিল না কোন কৰ্তব্য পালনে
তাও তাকে যেতে হয়
লাশকাটা ঘরে।  মুক্তি আজ তার
সে শুয়ে থাকে নিশ্চিন্তে
লাশকাটা ঘরে, চিরতরে ।

নীরবে শুয়ে থাকে সব লেনদেন শেষে
পিশাচেরা ভদ্রলোকের বেশে;
সে নয় কারও  আর,
এখন আর পরোয়া কার !

মাটি ভিজে ওঠে লাজে
সে আজ নতুন সাজে
নতুনের বীজ বোনে,
সেই সাথী নেই আজ জীবনে
চোখের জলে সিক্ত হয় আজ,
শেষ  সব লেনদেন
তবু বাকি থাকে কাজ।
আনতে হবে নতুন সকাল
বিদায় হবে অ-কাল  
অপেক্ষা নতুন ভোরের  
ফসল সে লড়াই-এর,  
প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায্য অধিকার
কেউ কাড়তে পারবে না সম্ভ্রম আর।
 
পিশাচেরা রঙ্গ তামাশায়
কাঁদে হতাশায়,
পয়সার ডুগডুগি বাজিয়ে
পাবে না তাকে আর
সে আজ কোথায় গেল হারিয়ে।

No comments:

Post a Comment