বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Saturday, January 19, 2019

টুকিটাকি // ছোটবেলা - ১০ // বন্য মাধব

টুকিটাকি // ছোটবেলা - ১০   //  বন্য মাধব

 
এবার আসি সাধারন দিনগুলোর খাওয়া দাওয়ায়। বাড়িতে আত্মীয় স্বজন এলে সাধারন দিনগুলো অ-সাধারন হয়ে যেত। তাদের মধ্যে সমবয়সী থাকলে তো সোনায় সোয়াগা। খেলা গল্প খাওয়া তিনটে দিকই জমে যেত। আর পোষা হাঁস মুরগীর কপালে লাগতো দুঃখ। ভাবতাম, বলতাম এবার কোন কোনটার পালা আসছে। বাছাই পর্ব শেষ হলে সেটার যত্নও বাড়ানো হত। আয় আয় চৈ চৈ,  আয় আয় টি টি, খা খা, এরপর তো তোকেই....। পোষা হলেও জবাই করতে বা খেতে আমাদের বিন্দুমাত্র কষ্ট হত না। একেই বোধহয় বলে খাদ্য খাদক সম্পর্ক। 
 
দিনক্ষণ ঠিক হবার পর আমরাই ছদ্ম আদরে ডেকে ডেকে মুরগী বা হাঁসটাকে ধরতাম। ওভাবে না পারলে তেড়ে তেড়ে। বড়রা গলা কেটে ছটপটানি মেরে আমাদের হাতে ছাড়তো পালক ছাড়াবার জন্যে। খেলার জন্যে আমরা রঙীন পালকগুলো আলাদা করে রাখতাম। আমাদের কাজের পর বড়রা আবার খুঁটিয়ে পরিস্কার করত। হালকা আগুনে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাদবাকি লোমগুলোও নষ্ট করে দিত।
 
আর কচ্ছপ আনা হলে তাকে প্রথমে জল গরম করে সেদ্ধ করা হত। তারপর পিঠের শক্ত খোলা আলাদা করে মাংস বার করা হত। এ কাজে কচ্ছপ বয়ে আনা আর মাংস রান্নাঘরে পৌঁছে দেওয়া ছাড়া আর কোন কাজ আমাদের ছিল না। তবে খুব মন দিয়ে কাজটা দেখে কায়দাটা শেখার চেষ্টা করতাম।
 
আবার কারো খাসি বা মদ্দা ভেড়া কাটা হলে কতটা লাগবে বাড়ি বাড়ি এসে জেনে নিয়ে যেত আর মাংস বাড়ি পাঠিয়ে দিত। কালেভদ্রে চেনা হরিণের মাংস ব্যাপারি বাড়ি বাড়ি মাংস ফেরি করতো। আমি এ মাংস খেতে চাইতাম না, গন্ধ গন্ধ লাগত। আর একটা জিনিস আমি খেতে চাইতাম না, মধু, আমার গা গুলিয়ে উঠতো।
 

No comments:

Post a Comment