Friday, January 18, 2019

টুকিটাকি // ছোটবেলা - ৯ // বন্য মাধব

টুকিটাকি // ছোটবেলা - ৯ //  বন্য মাধব

 
বামনির দিন দু'য়েক আগে থেকেই আমরা সব ব্যাপারে গুড বয়, সাবধানে থাকতাম যাতে ঠান্ডা মান্ডা না লেগে যায়, সর্দি জ্বরে পড়লে তো সব মাটি! বুঝেশুনে খেয়ে পেটটাও ঠিক রাখতাম, পিঠে হজম করা চাড্ডিখানি কথা!
 
বড়রাও সাবধানবানী শোনাত। সকাল থেকেই ঘুরঘুর মা, রান্নাঘর আর উঠোনে। কোথায় কি চলছে। নিকানো ঘর দোর উঠোন ঝকঝক করত। গোবর জলেই এ কাজ হত। সবার খুব খুশি খুশি ভাব। দিন যে কখন কেটে যেত! সন্ধ্যা নামে, খুশির বন্যা নামে, আমরা জড় হই উঠোনের জোড়া পাখার কাছে। গামলায় তৈরি আকসি পিঠের জন্য আলো চাল গোলা, পাঁচ পিঠে আর সাত পিঠের খোলা রেডি, একটা বাটিতে সরষের তেল আর বেগুনের বোঁটা বা মানকচুর ডাঁটি। সন্ধ্যে পড়ল গোলায়, পুজো পেল পাখাও।
খোলা চাপল একদিকে, পাখার অন্যদিকে ডালের পিঠে তৈরির কড়াই। তুঁষের জ্বাল, ধিকিধিকি, একদিকে মার চব্বিশ ঘন্টার সাথী জ্যোতের মা, আমরা যাকে দিদি ডাকতাম, অন্যদিকে মা নিজে। প্রথম খোলার পিঠে পাখা, গোয়াল, পুকুর পেত। দ্বিতীয় থেকে খোলা থেকে আমাদের। গরম গরম পিঠে ঝোলা গুড় ছাড়াই আমরা সাবাড় করতাম একে একে।
আমাদের পালা শেষ হলে তবেই বড় একটা হাঁড়িতে জমতে পেত। এক হাঁড়ি আকসে পিঠে হলে তবেই বন্ধ হত, শুরু হত নারকেলে পিঠে, সেটা দু'রকম হত, ভাপে সেদ্ধ আর দুধে সেদ্ধ, হত শেষ দিকে কলার পিঠে, তেলের পিঠে।
নারকেল পিঠে তৈরির সময় আমরা ঝুনো নারকেল কুরে দিতাম, ছাঁইকে পটাপট পুর হিসাবে পিঠের মধ্যে ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করে দিতাম, বাকি কাজ মাদের। রাতের পিঠে খাওয়ার পর আমরা ট্যাঁপাটেঁপির পিঠে খাবার গল্প শুনতাম, গল্পটা পুরনো হত না।
 
সকালে, দুপুরে আবার ঝোলা গুড় দিয়ে আরেক প্রস্ত। সন্ধ্যায় আবার পিঠে বানাত মা। মোট দিন তিনেক এ পাঠ চলতো। বাড়িতে অতিথি এলে পীঠেই পেত। পীঠে পর্ব শেষ হলেও চালের গুঁড়ো শেষ হতো না। বকেয়া গুঁড়োতে ঝোলা গুড় মাখিয়ে নাড়ু তৈরি। ইচ্ছে খুশি সেগুলো খেতাম।