Monday, January 21, 2019

টুকিটাকি // ছোটবেলা - ১২ // বন্য মাধব

টুকিটাকি // ছোটবেলা - ১২ // বন্য মাধব

 
এবার শামলার কথা না বললেই নয়। আমরা নিজেরাও তুলতাম, আবার কেনা হতো। কাঁচা খাওয়া তো আছেই, গয়না বানিয়ে পরা আর খেলাও চলে, বিশেষ করে মালা তৈরি। আর লম্বা বেলুন বানাবার খেলাটাও ভোলার নয়। অতি, অতি সাবধানে শামলার উপরের ছাল ধীরে ধীরে নিঁখুতভাবে টেনে আনা হতো। তারপর সেটা মুখ দিয়ে ফুলিয়ে বেলুন বানানো।
 খেলার শেষ পর্যায়ে একে একে সব গয়না খেয়ে ফেলা। অমৃত আস্বাদ! আর অমৃত লাগতো শামলার পাকা ফল, ঢ্যাঁপ, আহা! সর্ষে বাটা দিয়ে শামলা? সে এক তৃপ্তির খাওয়া! সবচেয়ে সুস্বাদু লাগতো, সে কাঁচা বা তরকারি যা খাই না কেন, খালের, পুকুরের, দিঘীর লম্বা লম্বা লাল লাল সুতি শামলা।
 
শামলার মত ঢ্যাঁড়স, টমেটা, রাঙাআলু, বরবটি, কাঁকুড়, ফুটি আমরা কাঁচা খেতাম, আবার এদের তরকারিও খেতাম। আবার টমেটা, কাঁকুড়, ফুটি পাকাও সুস্বাদু। আর খেতাম খরমুজ, তরমুজও। এগুলি সবই আমাদের ক্ষেতে হতো। চাষ হতো লঙ্কার, কুমড়ো, পুঁইশাক, ঝিঙে, উচ্ছেও। বাড়ির পিছনে চাষ হতো মূলতঃ কাটোয়ার নটে, আলু আর গুঁড়ি কচুর। বাড়তি আনাজ রামপুর হাটে বেচে দেওয়া হতো।
 
মার হাতে ডিমের ঝোলটা জমাটি হতো। আধখানা করে ডিম ভাগে পড়ত, কিন্তু কুসুম খুলে যেত না। কাঁচা তেঁতুলের টকটাও সর্ষে ফোড়নে খুব খুলত। ডিঙেভাঙা থেকে আসা দু'ডাবরি খেঁজুরে গুড় দিয়ে রোজ রোজ পান্তা আর পষ্টিভাতও হাপুস হুপুস শেষ হতো। তখন স্কুলে দুপুরে বুল্গা রেঁধে খাওয়াত। সেটাও আমরা চেটেচুটে খেতাম। আর ধান তোলার পর মাঠে কোদাল নিয়ে গিয়ে খেঁপুর তুলে খেতাম। এক একটা চাপড়ায় এত খেঁপুর থাকত না! কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। 
এরকম এক কাড়াকাড়িতে অসাবধানে আমার মাথায় কোদালের কোপ পড়ে। তার দাগ আজও বয়ে বেড়াচ্ছি। আর খেতাম নুন মাখিয়ে কাঁচা তেঁতুল, কচি তেঁতুল পাতাও। আমাদের বাড়ির কাছে জগদীশদার একটা বড় তেঁতুল গাছ ছিল। দুপুরবেলা সেখানে আমরা উৎপাত করতাম। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, বৌদি দুম করে মারা গেল, আর ঐ তেঁতুলগাছটা কেটে বিদ্যাধরীর চরে তাকে দাহ করা হলো। এটাই বোধহয় আমার প্রথম মৃত্যু দেখা।
 
(চলবে)