Friday, January 11, 2019

কবি স্বপন নন্দী

talkontalk



খেয়া
--------
স্বপন নন্দী
..............
একটা দুটো নৌকা এলো
একটা দুটো মানুষ
ঘাটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকে দু-একটা জিজ্ঞাসা

.
ওইপারে যে বৃষ্টি-মেয়ে
এইপারে সে শস্যযুবক
নৌকা আসে নৌকা ভাসে সে-ই জানে সব ভাষা ।
.
নৌকা জানে মেয়ের বুকের মধ্যিখানে
একটি দীঘল স্বপ্ন ছিল
নৌকা জানে কোন অরণ্যে
শস্যযুবক বৃক্ষ হলাে।

.
আমার কিছু বিত্ত ছিল ।
ছড়িয়ে দেব, বীজ বুনবাে, হিরণবর্ণ ধানের মুঠি
ওই পারে যে দাঁড়িয়ে আছে, তাকে দেবাে, তাদের দেবাে ।
এইপারে যে হাত রেখেছে।
নদীর কাছে চাইতে এসে
যারা এখন মাঝ-নদীতে আসছে ভেসে
তাদেরও দেব
.
হিরণবর্ণ ধানের মুঠি
ওরা দুজন স্বপ্ন-দুটি
দুইটি তীরে
বাঁচার মীড়ে
রাখবাে, রেখেই দেবাে
ধানের মুঠি।




------------



মাতৃরূপেণ সংস্থিতা
স্বপন নন্দী


দশটি হাতের মঞ্জ ‍ুষাতে কি রেখেছাে ভরে ?
সংকটে বিপন্ন আমি তােমার সন্তান
আমারও আশ্বিনে ছিল কুসুম-সম্মান
পারাে দিতে স্নেহে ও ক্ষমায় প্রতিশ্রুতি উজাড় ক’রে ?


এই বসন্ত অথচ নিঃস্ব অমলকান্তি ফুলের তরে
কি রেখেছে মঞ্জ ‍ুষাতে
অভিমানের এই প্রপাতে
ছড়িয়ে দিলাম হৃদয় খুঁড়ে সবটুকু রােদুর
কখন মাগাে বৃষ্টি হবে
রামধনুতে ভাসিয়ে দেবাে সপ্তপদী সুর


এখনাে যারা প্রদীপ জ্বালায় তুলসিতলায়
এখনাে যারা শাঁখ বাজিয়ে সন্ধ্যা আনে
শারদ মেলায়
প্রাণের টানে,
ওরাই বলে—ঠিক এসেছাে এই সময়ে পরমতমা

মঞ্জ ‍ুষাতে ঠিক রেখেছে আমাদের সেই বেদ ও প্রমা।






সংরাগ

জ্যোৎস্নার অন্তর্গত কয়েকটি পাখি প্রসব করে যায়
অভিমানী ডিম
অভিমানের যখন শৈশব, তাকে বলি
আগুনের চেয়েও উত্তাপ থাকে চোখের জলে
চোখের জল জমতে জমতে পাথর
পাথরে হাত রাখলে অনুভবে অনুভবে বর্ণমালা
এপিটাফ।

নদীকে কখনই বলতে নেই—একটু দাঁড়াও গল্প করি
ঝর্ণাকে বলতে নেই—উৎসের দিকে ফিরে যাও
নারীকে শৈলী হতে হয়
তবে তাে ফসল উঠবে যৌথে সমবায়ে।



অন্ধকারের মধ্যে চুপিসাড়ে তা দিচ্ছে স্বৈরিনী সময়
ভূমিষ্ঠ হলেই তারা হাতে তুলে নেবে দাঙ্গার লাঠি
সে-লাঠিতে মানুষের হৃদয় ভাঙে
মন্দির মসজিদ নয়, মানুষই ক্ষত হয়, দীর্ণ হয়।



তুমুল বৃষ্টিতে শস্যেরা সংগ্রামী হয় , নাচে ভৈরবে
আমাদের স্বপ্নের জ্যোৎস্না পাখির ডানায় মন্ত্র মাখে
বেদগান


এর নাম আকাশ জুড়ে সৃজনকথা
দাঙ্গা নয়

এর নাম সংরাগ।