বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Saturday, January 12, 2019

শম্পা পত্রিকার কবিতা

talkontalk


সম্পাদনা : স্বপন নন্দী
বিকাশ মন্ডল



সুজিত সরকার
সমগ্রকে অনুভব করতে হয়


অংশকেই পাওয়া যায়
সমগ্রকে নয়।
সমগ্রকে অনুভব করতে হয়।
.
.
এভারেস্টের চূড়ােয় যে পৌঁছায়
সে-ও কিন্তু হিমালয়কে
পুরােটা জানে না।
.
.
মাছ ধরতে যে ধীবর
সমুদ্রে বিন্দু হয়ে যায়
সে-ও কিন্তু সমুদ্রকে
পুরােটা জানে না।
.
.
প্রকৃত প্রেমিক
অন্ধকারে
তার নারীর কোমল হাতে চাপ দিয়ে
তাকে সম্পূর্ণ বুঝে নেয়।
.
.
অংশকেই পাওয়া যায়,
সমগ্রকে নয়।
সমগ্রকে অনুভব করতে হয়।





বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
দৃশ্যান্তরে
................
হালকা হাসির গল্পে, কখনও বা পরের চর্চাতে,
ধূমপান-অবকাশে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কথায়,
কলেজ, গঙ্গার ধার, রেস্তোরাঁর বাচাল সভায়
তাকে খুঁজে পাওয়া যেত, পাকানাে খাতাটি ডানহাতে।
ধেড়ে ইঁদুরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছােটেনি সে আরও
বামনের দেশে তার স্বেচ্ছাচারী উদ্ধত চিবুক,
নিষিদ্ধ আপেলে দাঁত, ছিল তার একমাত্র সুখ,
রঞ্জু দেখে সর্পভ্রমে পালাতে দেখিনি একবারও।


কেন জানি, একদিন ঘুম ভেঙে মনে হল তার,
কী এক জটিল আঁক কষা আছে আকাশের বুকে,
বাতাসে, জলের ঢেউয়ে, স্পন্দমান তারাদের ভিড়ে
অদ্ভুত দ্যোতনা নিয়ে পরিব্যাপ্ত শুন্যের সংসার ;
কেবল নিসর্গ নয়, গৃঢ় লিপিনগরীরও মুখে,


ছোঁয়া যায়, ইচ্ছে হলে, পলকে যা মিলায় তিমিরে।





অশােক অধিকারী
বােধ
.......
সহ্যতাপে প্রত্যহ মর্মভেদ অকূল সাগর
নিত্যসুখ সঙ্গে থাকে নমনীয় মৃত্যু বাসর
রােদদগ্ধ উত্তরীয় পড়ে থকে সহ্যসীমায়
হাড়ের কাঁপন লাগে অসুখের বােম খােলায়


কত ঋণ জমে যায় অরণ্যে পয়ার পিকনিক
উৎসম্নে চড়ুইভাতি রিংটোনে মধুচন্দ্রিমা
হাতগুলাে মিলতে চায় অপরাধ ওকালতনামা


ফিরেছি ঢেউয়ের টানে নবজন্ম ক্ষমার অধিক





জ্যোতির্ময় দাশ
আমাদের বসতবাড়ি


আমরা স্বপ্নের একটা বাড়ি তৈরি করেছিলাম শূন্যের
মধ্যিখানে। সেই বাড়িতে শুধুমাত্র দরজা ছিল দুটো,
কোথাও কোনাে জানালা ছিল না.....


ক্রমশ এক অলীক মরুভূমি এসে গ্রাস করে নিল
আমাদের যাবতীয় সুখের গেরস্থালি। কবিতার
খাতায় লেখা মরুদ্যানের শ্যামলিমা চাপা পড়ে গেল
তার কপট বালির আগুনে, আর আমার তানপুরার
লাউয়ের ভেতর বেড়ে উঠতে থাকল ফণিমনসার অবাধ্য
শাখা-প্রশাখায় তীক্ষ্ণ কাটার যন্ত্রণা....


শেষে একদিন প্রথম দরজাটা খুলতেই এক মায়া সমুদ্রের
অপার্থিব দৃশ্যে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম আমি;
দ্বিতীয় দরজার খােলা-পথে দেখা গেল মৌনী পর্বতের
ধ্যানমগ্ন স্তব্ধতার অলৌকিক পদাবলি…


আমাদের এখন কোনাে দুঃখ নেই, বেশ সুখে আছি আমরা





সাতকর্ণী ঘােষ
অন্তর্মুখি সংলাপ

এই ঝুরঝুরে হা হা হাসির দুপুর
এই শৈত্য দুপুর
একটি একটি করে একদল
লাল-নীল-সবুজ-হলুদ ঝরে গেল
,
কত রাত কত কুয়াশা রাত
সাদা ফোটা ফুল নির্বাক
ঝলমলে হলে নিজেকে জাগায়
কত পতঙ্গ উড়ে আসে সে সময়

ঘন আকাশ যদি মেঘ বলি
তবে সুন্দরী নীলিমা বৃষ্টিস্নাত হবে
দুপুর গড়িয়ে নিয়ে পাখি ফিরবে
লালটুকটুকএকঅপেক্ষার জন্যে।






শম্ভ রক্ষিত
বােধি
..................
বংকগিরি যাও। চেলিয়ামা, তেলকুপী ছাড়িয়ে
যে রাস্তা খেপে খেপে চড়াই উৎরাই হয়ে এগিয়েছে
সে রাস্তা ধরে বেসসাস্তর আশ্রমে এসে কিছুদিন কাটাও।
ইদপুর দেউলিভিড়্যা, পাকবিড়র‌্যার যােগীরা এক অভ্রভেদী প্রাচীরের মত
তাদের অতিদানের দ্বারা দানপরায়ণতা এখানে এসে পূর্ণ করাে।


কখনও তুমি বেচারা তুলার মাশুল আদায় করে খেটে খাও।
কখনও ফ্লাইং শাটল তাতে গামছা বােনার খটাং টাং শব্দ করাে
কখনও সুপারি বা নারকোলের মত বাকলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকো
কখনও শ্বেতবামন লাল দৈত্য নিউট্রন নক্ষত্র পলিসার।
চোয়াসার ব্ল্যাকহোেল এসব তােমার বিদ্যার বিষয়।
তুমি কৈলাসপতি বেদজ্ঞ, না যুক্তিবােধহীন পাপী ?


যারা তােমার গােপাল সিংহদেবকে মাগুলিতে রেখে এসেছে
যারা তােমাকে পূর্বপুরুষের পাপ, অভিশাপ নিয়ে
বসিয়েছে পরম পিতার দক্ষিণ পার্শ্বে
তারা ধর্ম না অধর্ম করেছে সেটা জেনে লােকহিতকর করাে।


পীতাম্বর দত্ত, বডদ্যালের চতুর্বেদীর সঙ্গে তুমি যাত্রা করেছ
আর ঐ পূষ্কর্ণা বলয়ের মধ্যে শিশুমার লােক কেশজল
বিষ্ণুচক্র নাকি ঠিক থাকে, মৃত্যু ও অমৃতত্ত্বে সমাহিত মায়া মায়া
আর্কিয়ান যুগের শিলা, স্বকীয় পরকীয়া-সাধারণী নায়িকা
বালা  তরুণী যুবতী বৃদ্ধা তাদের কি হয়েছে ? আমাদের বলাে।
শরীরে তােমার লাবণ্য নেই, মকরের জল খাও, তুমি ক্ষুধার জ্বালায় থাকো
কাছে একটা কানাকড়িও নেই-এ সম্ভোগকলা। প্রার্থনা সম্বন্ধেও তাই


শানবাঁধানাে ভূতেশ্বর ছুঁয়ে দ্বারকেশ্বর নদী পেরিয়ে
নিকুঞ্জপুরে এসে দ্যাখাে তুমি শিখাহীন বিশুদ্ধজ্যোতি
তােমার গ্রাম কথকথার গ্রাম।
তােমার গ্রাম কীর্তনের গ্রাম।
তােমার গ্রাম মঙ্গলগীতির গ্রাম, সর্বজীবের গ্রাম।
..............................................................................


অজিত বাইরী
নীরব থাক

বলার কথার থেকে না-বলা কথার
ধার ঢের বেশি। তুমি নীরব থাক।
.
বাইরের চিৎকারে কান দিও না; বরং
নিজেকে সংযত রাখ নিজের ভেতরে।
.
কথার পিঠে কথা চড়ালেই ভোঁতা
হয়ে যায় অস্ত্র। তুমি নীরব থাক।
.
জগৎ সংসার যতই উত্তেজনার আগুন পোহাক;
তুমি নিজেকে আড়াল কর দুর্ভেদ্য নির্মোকে।
.
বলা কথার থেকে না-বলা কথার

ভার ঢের বেশি। তুমি নীরব থাক।

................................ 



নিমাই আদক
চলাে

এক অদ্ভুত অন্ধকার ঠেলে তােমার এগিয়ে যাওয়া
এগিয়ে যাওয়া মানে শুধুই সামনের দিক
চারপাশ ঘিরে এত নীরবতা, নিঃশব্দে চাপা কান্না
প্রতিদিন পালটে যাচ্ছে রঙ যেন বিবর্ণ ঠিক
.
এখনও বৃষ্টি এলে তুমি লুকিয়ে থাকো নির্জন ঘরে
আলাের বিপরীতে হেঁটে চলাে দিন থেকে রাত -
কি যে সুখ পাও এই আত্মগােপনের নিজস্ব পৃথিবীতে

চলাে হেঁটে চলি পাশাপাশি, ধরাে আমার হাত
..................

মানসকুমার দত্ত
মৃত্যুবিষয়ক

তােমার সবটুকু নিয়ে নেয় সন্ত্রাসে থাকা দুর্গত মহিষের ব্রাত্য জীবন
নিয়ে নেয় ইচ্ছা, ত্যাগের মহিমা রােমে ও গরলে, নিয়ে নিলােমন্দ্র জঙ্ঘা ধার
একে একে খুলে নেয় প্রতিটি অলঙ্কার, অলঙ্কারে কিশােরীর আনত
রহস্যাবলি লেগে থাকা পরতে পরতে-তাই তার সুন্দর লােভে চোখ-ফ্যালা
ত্রুর চোখ লােভে জ্বলজ্বল করে, তবু সুন্দর, তােমার ওদার্য চেয়েছে যে,
চেয়েছে তােমার মুখের মহাগান, দাস্যুতা চায় নাই, চেয়েছে সমাদর
মহিষের দেহ থেকে ব্যর্থতায় যা ক্ষরণ হােললা বীর্য নয় প্রকৃত দুঃখরস,
তােমাকে নিঃস্ব করেছে ঐ ব্যাধিগ্রস্ত মহিষের জীবন তােমাকে
আবৃত করেছে কুশলী আঙুলে, আঙুল নির্ভয় মন্ত্রের গূঢ়তায় উৎসারে
ফেলেছে মন্ত্রপুত মৃত্যু-সৃজনতা সংগােপনে তােমার পরান্ন-আসক্তিতে।

............................................................

সৌমিত বসু
তিনি বিবেকানন্দ

হাতে পেয়েছিলেন মাত্র উনচল্লিশটা বছর
সিন্দুকে গুছিয়ে রাখেননি
লােফালফি করেছেন, ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছেন আমাদের মধ্যে
আমরা তা কুড়িয়ে নিয়েছি
গেঁথে নিয়েছি চুলের ভেতর, হৃদয়ের আশপাশে
তা থেকে ছড়িয়ে পড়া দ্যুতি
আজও রক্ষা করে চলে আমাদের সন্ততিকে।
তিনি বিবেকানন্দ
হাতে পেয়েছিলেন মাত্র উনচল্লিশটা বছর
সিন্দুকে গুছিয়ে রাখেননি
ছড়িয়ে দিয়েছেন মানুষের জন্য।
.
.
আকাশের দিকে তাকালে আজও দেখতে পাই
ধীর পায়ে তিনি হেঁটে চলেছেন এক আকাশ থেকে অন্য আকাশে
গায়ে লেগে থাকা ভারতবর্ষের ধূলাে
হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করে চলেছে উদ্ধত পাশ্চাত্য
আমাদের শিরদাঁড়ার ভেতর বয়ে চলা রক্তস্রোতে
মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার আকাঙ্খা,
‘যে জীবন দোয়েলের ফড়িং-এর’
সেও হতে পারে ইস্পাতের মতাে
এ সমস্ত কিছু চোখে চোখ রেখে শিখিয়েছিলেন যিনি
তিনি বিবেকানন্দ
হাতে পেয়েছিলেন মাত্র ঊনচল্লিশটা বছর
সিন্দুকে গুছিয়ে রাখেননি
খণ্ড খণ্ড করে বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে।
.
.
আমরা নম্র হতে শিখিনি
নতজানু হতে শিখেছি
মাথা পেতে সহ্য করতে শিখেছি যাবতীয় অন্যায়
আর জ্বালার ভেতর লুকিয়ে থাকা অজস্র বিষ
উগরে দিতে শিখিনি কখনও
তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন
কিভাবে রাজার ছবির ওপর থুতু ফেলতে হয়
মৃত্যুর পরেও কিভাবে বেঁচে থাকে মানুষের ছায়া
তিনি বিবেকানন্দ
হাতে পেয়েছিলেন মাত্র ঊনচল্লিশটা বছর
সিন্দুকে গুছিয়ে রাখেননি, ঘাের সংসারীর মতাে।
.
.
সমুদ্রের দিকে তাকালে দেখতে পাই
দূরে জেগে উঠছে তার চূড়াে
ভিজিয়ে দিচ্ছে আমাদের জামা কাপড়, সমূহ অতীত
চোখ জ্বালা করা কান্না এসে দাঁড়াচ্ছে
নিজস্ব উঠোনে
আর স্পর্শ এসে দুলিয়ে দিচ্ছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড
একটি ছড়ি হাতে নিয়ে তিনি হেঁটে চলেছেন উত্তর থেকে দক্ষিণে
তার পায়ের স্পর্শে নেচে উঠছে অভাবী ভারতবর্ষ।
তিনি আমাদের বিবেকানন্দ
হাতে পেয়েছিলেন মাত্র ঊনচল্লিশটা বছর
সিন্দুকে গুছিয়ে রাখেননি
টুকরাে টুকরাে করে উড়িয়ে দিয়েছেন
আমাদের আত্মার ভেতর।

স্বপন নন্দী
কোলাহল থেকে দূর
.
নৈঃশব্দ্যময় অরণ্যবালিকা কী যেন খুঁজছে
কাকে যেন!
ক্লান্ত অবসন্নতায় তার থামা
বালক তীরন্দাজ
তার তূণে কোনাে প্রাণের পালক, পালকে রক্ত
আর নয়।

প্রবীণ অশ্বথ আনন্দ ছড়িয়ে বলছেঃ
এসাে, বিষাদে নয়, সম্মােহনে, শান্তঘনতায়
তােমাদের জন্যে আসনপাতা
এখানে যতো পাখি, সবার অতিথি হবে তােমরা।

অরণ্যবালিকাও বৃক্ষের কাছে প্রার্থনা নিয়ে
নতন পবিত্র ঃ
তুমি পাতায় পাতায় মর্মরে রটিয়ে দাও
দুর্বিনীত কোলাহলে রাখব না পা রাখব না হাত।

.
অপূর্ব কোলে
নৌকো
.
সব কাগজে নৌকো হয় না
বৃষ্টি দিনেও গান ভাসে না
সব লেখাতেই ক্ষীর জমে না
ভাবের ঘরে অন্ধ হলে।

শীতের শিশির টলছে ঘাসে
রাত্রি আসে গন্ধ ভাসে
আদিম রক্ত নাচতে থাকে
পাগলিরে তাের গরল গ্রাসে

ছন্দ জাগে তাের শরীরে
মেঘ খুলে তুই আয়না ধরিস
জ্যোৎস্না থেকে উছলে পড়ে
ধবল পালকমন কেমনের
,
তুই যে আমার সেগুনবীথি .
মউল ফুলের শাওন বেলা
তাের শরীরই নৌকো হয়ে
কাব্য হয়ে নামছে মাঠে।
.




দিলীপ বসু
তবু আলাে দেবে অসীমের কবি


জানি পদ্মা ছুঁয়ে যাবে বাংলার মাটি আবহমান
জানি মাটিতে মাটিতে কোনােদিন
ফারাক হবে না জমিন-আসমান
তবু কেন জানি না মনে হচ্ছে তােমাতে
কোনাে এক ঘূর্ণির বিপন্নতা আকস্মিক
যদি আশংকা হয়ে যায় ঠিক-থেমে যায় গান:
“আমার সােনার বাংলা আমি তােমায় ভালােবাসি..”
এ-পারের “জনগণমন অধিনায়ক...”
আর যদি ওপারে না পৌঁছায় কোনােদিন
উড়ন্ত গাঁঙ-চিল পাখায় অ-ছোঁয়া
যদি থাকে শহীদ মিনার—দু-বাংলায়
হয়তাে বা ভাগ হবে রবীন্দ্র-নজরুল
এবার আবার অসহ্য এ দুর্ভাবনার ভিড়ে
শুকতারা চিরে তবুও চৰ্চিত আত্মায়

আলাে দেবে অসীমের কবি।










প্রদীপকুমার পাল
টানাপােড়েন


টুপির তলায় রঙিন চশমা চোখে
চিনতে পারিনা তাপদগ্ধ দুপুরটাকে
পিচগলা রাস্তায় চলতে গিয়ে
জুতাের টানে বুঝি পচাগলা বাস্তবটাকে।


বস্তি বাড়ীতে ঠাণ্ডার যন্ত্র বসিয়ে
হাসির খােরাক হয়ে
আড্ডা জমিয়ে নক্সা কাটি রঙিন শাড়িতে..
দিন-রাত্রি তবুও আসে।


ঝােড়াে হাওয়ার ঝরা পাতায় আগুন জ্বেলে
মেটাই চোখের নেশাটাকে...
তবুও সূর্য ওঠে, রাত্রি হাসে চন্দ্রালােকে।









রাতের পাখি
তপন গােস্বামী


গভীর রাতের পাখি দিনের আলােয়
ধান খেতে নেমেছে উঠোনে
নিরুদ্বেগ ডানার বিস্তারে
চাপা পড়ে ছায়াময় স্মৃতি
ওড়াে গুড়াে আলাের কণা
মুছে দেয় রাতের আলাপ।
মুখ পাখি পায়ে পায়ে যেখানে এগােয়
তার কিছু দূরে
মায়া ফাঁদ কে যেন পেতেছে।
.
আর কি কখনাে রাত তার এলাে চুলে
বিলি কেটে দেবে
তার চোখ থেকে দিনের ভিখারি
আর কি কখনাে কেউ যত্নে মুছে দেবে
এক ফোটা ঘাম
আর কি কখনাে হাতে পালকের সাড়া পেয়ে
ও পাড়ার কালাে মেয়ে পেছনে তাকাবে ?


রাত শেষ হলে

রাতের পাখিরা পুড়ে যায় ভােরের আলােকে।।






সুদীপকুমার চক্রবর্তী
জঠর জ্বলছে
.
চলেছে রন্ধন প্রক্রিয়া...
বাইরে খিদে নিয়ে বসে আছে অসংখ্য মানুষ।
মধ্যাহ্ন থেকে অপরাহ্নের মাঝপথে আমি।
সম্বরার গন্ধ ভাসছে হাওয়ায়
শেষপাতের আচার -
ভাত ফুটছে শাদা জ্যোৎস্নার মতাে—আসন্ন
রাত্রির মরীচিকায়। মানুষের ছায়াপথে এখন
উনুন আর আগুন নিয়ে অন্ধকার আলাপচারিতা।
চলেছে রন্ধন প্রক্রিয়া..
জঠর জ্বলছে।




বঙ্কিম চক্রবর্তী
গাধা উবাচ
.........................
চিরভারবাহী, কান্না আমায় অনেক দিয়েছাে মা
ব্যথায় ভরে আছে পাঁজর পা। হাসতে শেখাওনি .
প্রতিদিন সূর্য ওঠে সূর্য ডুবে যায়। শুনেছি অমৃত রাত্রিগান
হেঁটমুখে চলতেই থাকি গ্রাম পথ, পাথর নুড়ি জানে কতদূর
নিতান্ত বাধ্য আমি যে প্রভুর, মা গাে সে তােমার কেউ নয়।
আমি পালিত সন্তান নাকি আজ্ঞাবহ তাও বললানি
জেনেছি বাহন তােমার, তাহলে পেটঘাসে অন্যের সেবাদাস কেন ?
জীবনের মানে নেই কিছু
জীবনকে আজীবন শ্রদ্ধা করেনি এ সংসার।
তুমি শীতলা, সন্তান প্রদায়িনী বৃথা নারী, দেবী মালকিন
আমাকে হংস, পেচক, হিংস কারুর মতাে কেন খ্যাত করােনি?
প্রতিবাদ দাওনি, বাদ কণ্ঠর গান—কথাকলি।
পথ চলি।
পাহাড় উত্রাই
পিঠে বােঝা।
ক্লান্ত পা।
চোখের জলের সঙ্গে মেলে না সমমজুরী, শ্রমের হিসেব
এ তােমার কেমন সাম্য যাপন?
আমি সত্যই গাধা? দুর্গন্ধ বিধূর ?


প্রদীপকুমার চক্রবর্তী


আমি তাে বুঝি না


আমি তাে বুঝি না।
বুঝিতে চাই না
কার হলাে জেল,
কার হলাে জয়,
শুধু প্রলােভন-রাঙা গাজর ঝুলিয়ে
ভরা মরশুমে সব লুট করে
পরম শান্তি যারা কেড়ে নিল
দিল উপহার, চোখের জল
আমি তাে বুঝি না
কিছুই বুঝি না।


আমি তাে বুঝি না
বুঝিতে চাইনা,
কার হলাে লাভ, কার কত ক্ষতি;
ঐ প্রাণপাত করা সঞ্চিত ধন
মন্থনপর অমৃতকলস
দেবের চালাকি দেয় অসুরকে ফাঁকি,
চলে অনন্ত দড়ি টানাটানি,
কার ঘরে আলাে, কার চোখে ক্ষয়,
আমি তাে জানি না,
কিছুই বুঝি না


শুধু দেখে যাই
অনাথ ভাগ্যলক্ষ্মী চলেছে এখনও নিভৃতে কেঁদে
এখনও চলেছে কেঁদে,
সেই অশ্রুমুক্তা হেলায় শুকায়
নিরন্ন বালুকাবেলায়।
পশ্চিমে রবি বক্র হাসিতে
শুধুই করুণা দেখায়।
শুধুই করুণা দেখায়।
আমি শুধু দেখে যাই
আর শুধু বুঝে যাই



এর গভীর রহস্য মায়া।

No comments:

Post a Comment