বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Saturday, January 19, 2019

টুকিটাকি // ছোটবেলা - ১১ // বন্য মাধব



বন্য মাধব

 
সারাবছরই আমরা কাঁকড়া খেতাম। চিতি, তেলো আর হেড়ো কাঁকড়া। তেলো কাঁকড়াটাকে স্বাদের দিক থেকে সবার শেষে রাখতাম। কাঁকড়ার ঝোলে একথালা ভাত উঠে যেত। চিতি কাঁকড়ার সঙ্গে মিঠে কুমড়ো আর কচি পুঁইশাক দিলে তো আর কিচ্ছু লাগবেই না। হেড়ো কাঁকড়া রাঁধা হতো মাংসের মত। লাল ডিম ভরা কাঁকড়ার স্বাদ জিভে লেগে থাকতো। আর সাপের মত দেখতে কুঁচের ঝোলও মাংসের মত রাঁধা হতো। তারও স্বাদ ভোলবার নয়।
 
প্রথম বর্ষার জল মাঠে জমলে নাড়ার গোড়া উল্টে আমরা চিতি কাঁকড়া ধরতাম। দু'একটা আঙুলে এমন কামড়াতো যে ছাড়ানো যেত না, মরণ কামড়, রক্ত বেরিয়ে আসতো। দাঁড় ভেঙে দিয়ে তবে শান্তি। আর ধান তোলার পরও নাড়ার গোড়ায় এদের পাওয়া যেত। তেলো কাঁকড়া মিলতো পুকুরে, পাড়ে গর্ত করে এরা থাকত। কুঁচেও তাই। আমাদের বাড়ির লাগোয়া নোনা জলের পাণিখাল থেকে শামুকের চার দিয়ে সুতি ফেলে আমরা বর্ষার সময় হেড়ো কাঁকড়া ধরতাম। সেগুলোর আকার খুব একটা বড় না। বড় কাঁকড়া রামপুর হাট থেকেই কিনতে হতো। এগুলোর বড় দাঁড় দু'টোকে রান্নার পর নোড়া দিয়ে ভেঙে দিলে তবেই এর সুস্বাদু শাঁসটা আমরা খেতে পেতাম।
 
কুচো মাছের ঝাল বা টকও আমরা দেদার খেতাম। বিশেষ করে বর্ষার সময়। মাঠ বুড়ে যাবার পর পর চানে যাবার আগে আমরা চাকনি জাল নিয়ে চক্কর মেরে হাঁটু জলে কই, ট্যাঁংরা, চাঁদা, পুঁটি, খলসে, ল্যাঠা, শোল, উলকো, ন্যাদস মাছের বাচ্চা ধরতাম। বেশি বর্ষায় জল বের করে দেবার জন্যে আমাদের ঘেরের মোন দু'তিন জায়গায় কেটে ঘুনি বসানো হতো। ঘুনি ভরে যেত বিলসে মাছে। কড়ে চিংড়িও পড়ত দেদার। কি স্বাদ তার! দুপুরবেলা ঘাটের কাছে ছিপ ফেলে আমরা দেদার পুঁটিমাছ ধরতাম।তারও ঝোল ঝাল বা টক হতো। খেঁজুর ডাঁটির ছিপে কেঁচোর চার দিয়ে ধান ক্ষেত থেকে কই মাছও ধরতাম। সেগুলোর ঝোল হতো।
 

No comments:

Post a Comment