Tuesday, January 22, 2019

রমেনের ইন্টারভিউ // রঞ্জন মন্ডল

রমেনের ইন্টারভিউ   //  রঞ্জন মন্ডল

      রমেন এক অফিসে ইন্টারভিউ দিতে যায় অফিসে এসে দরজা সামনে দাঁড়িয়ে ডাকে রমেন :sir আসতে পারি
স্যার :আসুন এই চিয়ারে বসুন, আচ্ছা কি ব্যাপার বলুন
রমেন: না মানে আপনারা একটা News Paper এ বিজ্ঞাপন দিয়েছেন একটিছেলের প্রয়োজন তাই ইন্টারভিউ দিতে এসেছি
, স্যার: আচ্ছা আপনার biodata টা দিন
রমেন:এই নিন sir
স্যার: আপনার নাম
রমেন: রমেন মন্ডল
স্যার:আপনার বাবার নাম
রমেন : sir আর বাবার নাম বলে কিছু হবে না
স্যার:কেন?
রমেন: যে হারে সবাই তাদের মা বাবা কে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছে পরিবারের বোঝা হিসাবে সেই রকম school college certificate  নিজের নামের নীচে এ বাবা মায়ের নাম না দিলেও চলবে ,তার থেকে sir আপনি এক কাজ করুন
স্যার:কি কাজ  
রমেন: বাবার জায়গায় আমার ফেসবুক আইডি রাখুন আর মায়ের জায়গায় what app নাম্বার টা রাখুন আর ঠিকানা জায়গা   email address রাখুন স্যার :রমেন তুমি আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট তাই তুমি দিয়ে কথা বলি
রমেন: sir বলুন
স্যার : তোমার কথা মধ্যে যুক্তি আছে ঠিকই বলেছে যে ভাবে social network এ দেশে যে ভাবে এগোচ্ছে আর সাটিফিকেট এ বাবা মায়ের নাম না দিলেও চলবে
রমেন: হ্যাঁ স্যার এই দেখুন আপনাকে যদি আমার ঠিকানা দিয়ে দিই আপনার যেতে অসুবিধা হবে আমাকে ডেকে পাঠালেও হয়তো বাড়িতে পাবেন না what app Facebook email address এগুলো তে আমার সাথে আপনি দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবেন এই গুলো আমাকে সবসময় পাবেন।
স্যার: হ্যাঁ এটাও তো ঠিক এটাতো ভেবে দেখিনি আচ্ছা রমেন তোমার তো দেখছি বুদ্ধি ভালোই আছে  কাল থেকেই জয়েন করতে পারো বেতন 8000 পরবর্তী সময়ে আরো বেড়ে যাবে  
 না তোমার মতো ছেলে কোন যুক্তি ছাড়া এমনি কথা বলে না বলে দাও রমেন কি কারন
রমেন: স্যার News Paper   দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে এসেছি অথচ ওখানে আনন্দের খবর দেখায় মেলে না শুধু দুঃখের এতদিন পরে বিজ্ঞাপন দেখে আপনাদের অফিসে কাজ পেলাম এই একটা খুশির খবর তাই জানালাম

স্যার : সেটাই বলো তোমার মতো ছেলে এমনি আবার thanks বলবে সে কখনো হতে পারে।  রমেন: স্যার একটা কথা বলবো স্যার : বলো

রমেন:যে সমস্ত বাবা মায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের সুন্দর ভবিষ্যৎ এর আশায় পড়াশোনা করাচ্ছে অক্লান্ত পরিশ্রম করে  সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে হোস্টেলে রেখে অনেক টাকা খরচ করে, অথচ সেই সব ছেলেমেয়েরা বেশিরভাগেই ভবিষ্যতের আলো তো দুরের কথা ব্যাটারি ও খুঁজে পাচ্ছে না চার পাঁচ বছর ঘুরছে সরকারি চাকরি আশায় ঘুরতে ঘুরতে ডিগ্রি গুলো গাধার পিঠের বোঝার মতো বোঝা হয়ে রয়ে তাদের কাছে সেই সব ছেলেমেয়েদের যদি আপনারা দেখেন
   
স্যার : আমারা কি দেখবো সরকার যদি এই ব্যাপারে একটু ভাবে এই নিয়ে আলোচনা করছ অনেকটাই সমস্যার সমাধান হলেও হতে পারে তাদেরই যখন চোখ কান খোলা নেই আমরা কি করবো । তাছাড়া এই সব ছেলেমেয়েদের একটা মনের মধ্যে হাই ট্রেন্ডেনসি জেগে ওঠে তাদের উচ্চ ডিগ্রি ফলে আমার অফিসে এরাকে ঝাড়ু দিতে বলেলে দেবে না সমাজের কাছে লজ্জায় পড়ে যাবে বলবে বি এ এম পাশ ছেলে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করে, এরা যদি সমাজের এই সব লজ্জা ভয় দুর করতে পারে এরাও তাহলে নিজের জীবনে অনেকটা উন্নতি করতে পারবে ,

রমেন: হ্যাঁ স্যার  সমাজের কে কি বলবে না বলবে সেই সব কথা এরা প্রাধান্য দেয় , স্যার আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আমার বেকারত্ব দূর করার জন্য ।

স্যার: আচ্ছা ঠিক আছে thanks আমাকে নয় নিজের আত্মবিশ্বাস বুদ্ধি কে জানাও তুমি তোমার নিজের যোগ্যতায় পেয়েছো,  কাল কিন্তু সকাল দশটা এসো রমেন: হ্যাঁ স্যার আজ তাহলে যাই ওকে বাই স্যার দেখা হবে স্যার:ওকে বাই।।