Tuesday, January 22, 2019

ভাইপো গুড ইভিনিং // নীলোৎপল মন্ডল

ভাইপ গুড ইভিনিং  //  নীলোৎপল মন্ডল


😜
আঘইনা কাকার ব্রিগেড সফর
ইটা কইলকাতাল্লে শিখে আলিরে বাপ। সেদিন সন্ধ্যাই হামদের সঙে দেখা করতে আলেক একটা বড় নেতা তখন উয়াকে সবাই 'গুড ইভিনিং স‍্যার' বইলছিল তখন হামি ভাবলি ইটা ভাইপোকে যাইয়ে বইলতে হবেক। 
আমি বললাম কাকা কলকাতা কেমন ঘুরে এলে বলো। 
বইলবো রে বাপ সব বইলবো দাঁড়হা টুকু সবুর কর। 
নিভতে যাওয়া বিড়িটাকে দু আঙ্গুল দিয়ে টিপে টিপে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বিড়িটাকে জালিয়ে আঘইনা কাকা বলল,  ধুউরর ই কইলকাতার বিড়ি গিলা পেঁদা বঠে, শালা গটা কইলকাতাটা  ঢুঁইড়ে আশা বিড়ি পালি নাই‌। 
ত শুন ব, সেদিন তর দিয়া উ কোটটা পইরেহে আর থলিটাই দুটি মুড়হি বাঁইধে আর টেনটাই চাপে দিলি। আগেল্লে যাইয়ে যাইগা মিড়াইনছিলি টেনটার উপরটাই ,যাতে টুকু আরামে ঘুমাই ঘুমাই যাইতে পারি,
হামি জানথি দমে লক হবেক, আগেল্লে না গেলে বইসবারো যাইগা পাব নাই। হঁ ত টেনটাই উঠেই দেখি দমেহে লক। 
মমতা বেনাজ্জি জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ কইরে উঠে গেলি। তারবাদে তর কাকি উঁধি পিঠা ভইরে দিয়েছিল সেগলান খাইয়ে আর টেঁইররে দিলি। 
আমি জিজ্ঞেস করলাম হ‍্যাঁ কাকা কলকাতা যাচ্ছো এত বড়ো মিটিং য়ে আর একপাট দিলসে দিয়ে উঠ নাই 
হামি কি আর অত বকা লক বঠি নকি, জলের বতলটা কি কইরতে লেগেছিলি, উটাই দুটা দিলসে ভইরে লেগেছিলি রে বাপ। হামি ত জানি বাহিরে যাছি পাওয়াবেক না পাওয়াবেক কনহ ঠিক আছে, তাই আগেল্লেই ব‍্যাবস্থা😁😁
সেই এই না হলে আমার আঘইনা কাকা👍
তারবাদে শুন সকালেই হাওড়া পৌছে গেলি। দমে বড় ইস্টিশন রে বাপ হাওড়াটা , হামি কনহ দিকে ভালি নাই, সঝা থলিটা নিয়ে আগুদিকে চইলতেই শুরু। কেনে জানিস , থলিটাই হামার দিলসে আছে , সেই জন্তে ডর লাইগছিল যদি শালা টিটিহে ধরে। 
ইস্টিশনলে বেরাহাই নিয়ে হামদেরকে বাসে চাপাই দিল রে ব, হামি জানলা ধারে বইসে দেখতে লাগলি কইলকাতা টাকে , গঙ্গাটা হামদের কাসাই এল্লে দমে বড় লদি বঠে এখনো কত জল। বাসেল্লেই পনাম করলি মা গঙ্গাকে। চারধারে শুধু উচু উচু দালান আর লকজন আর জুঁইয়া পালের মতন গাড়ি। হামদেরকে নামাহাই দিল উত্তীন্ন বলে একটা যাইগাই। উটা হামদের এম.এস টার লেকেন বঠে। 
যাইয়ে দেখলি সতরঞ্জি বিছা আছে, থলি থুবড়া রাইখে টুকু জিরালি। তারবাদে হামদের গাঁয়ের পধানের বেটাই বলল তুমরা নাস্তা নিয়ে লাও লাইন দিয়ে। 
কলা আর পাওরুটি দিল ত উগলাই কি হামদের সকলের পেট ভরে নকি। বেসামে মাড় চঁচায় হাভ‍্যাস হামদের। তখন ভজাকে বলল্লি দেখনরে ভজা কথাও চপ দকান আছে নকি যা দুটা নিয়ে আই, মুড়হি খাব দুলোকে। 
দিয়ে ভাজার সঙ মুড়হি খাইয়ে আর চানটা করলি বাপ যুইত কইরে। সে কি দেখবি রে বাপ উপরল্লে জল পড়ছেচান করা ঘরটাই, ভজা বলল্ল উটাকে শায়ার বলে। 
তবে বাপ হামার দু'দিনল্লে বাঁধ হয় নাই হামার। জানিসত হামদের সকলের উ লেটরিং মেটরিং যাইয়ে হাভ‍্যাস নাই। 
চান তান কইরে  টুকুডঙ রোদ পুহাই নিয়ে সবাই ডাইকল ভাত দিছে ভাত দিছে খাইয়ে লাও। শালা দমে লক লাইনে, ঠেলা কুচা কইরে হামোও লাইনটাই দাড়াহালি। 
বড় সুন্দর সরু চালের ভাত রে ব , আর ডিমের ঝোল দিল, সাঁটে দিলি বাছাকে। দুবারের পর তিনবার যখন লিতে যাছি কেটরিং এর ছিলাটা হামার দিকে ভালছে। হামোও মনে মনে বল্লি , ভকে থাকলে তর ডেগটার ভাত গিলা হামি একাই ফুরাথি।
বিড়িটা টাইনে নিয়ে টুকু মন টাই হইল ঘুইরে দেখি কইলকাতাটা। ভজাকে বল্লি ত বইলছে আনখাই কনদিগে যাবি, হামরা কনহ জানি নকি কনদিগে কি আছে। কইলকাতাই আরহ বাসের নম্বর আছে, কত নম্বর বাসটা কনদিগে যায় নাই জানি হামি, কনহ তর পুরুলা বঠে যে টোটো ই চাপলেই তকে পৌছাই দিবেক নডিহা। তখন ছকরা ছিলা গিলান কে বল্লি চ 'ন বাপ টুকু হামদেরকে নিয়ে চ কনহদিকে ঘুরতে। 
তখন ঠিক হইল ভিক্টরিয়া নিয়ে যাবেক হামদের। যাইয়ে দেখলি একটা দমে বড় সাদা রঙের ঘর, বাগান আর বাঁধ আছে ভিতরেই, হামদের জেইলা পাড়ার দুগ্গা্ মন্দিরটার পারা। ইংরেজরা নকি বনাইছিল ইটা। রাস্তা গিলাই গুলু পাথর বিছা আছে তখন দুটি কুড়াহাই আনলি , বলি ছিলা ছুলুন গিলাই খেইলবেক। 
ঘুইরে যখন আলি তখন হাঁইটে হাঁইটে পা গিলা দুখাছিল। আইসে জিরাছিলি তখন দেখি একটা বড় নেতা চইলে আইল আর আসে হামদের সকলের খঁজ খবর লিল। 
হামদেরকে শুধাইল, 
আপনারা সবাই ভাল আছেন তো? 
খাওয়া দাওয়া করেছেন ত সবাই? 
হামি নমস্কার করলি। মনটা জুড়াই গেলরে বাপ। অত বড় নেতাটাই আঘইনাকেও আপনি আপনি কইরে কথা বলল। 
তারবাদে ভাতটা খাইয়ে নিয়ে বিড়িটা টাইনে আর বলি ঘুমাব ত ঘুম আর আসছে নাই। তারপর লাইটগিলা নিভলে থলিটাল্লে জলের বতলটা বাইর কইরে দু ঢোক দিলি ন আরামে ঘুমালি।
ভর ভর ঘুম ভাঙেছে ত ভজাকে বল্লি চ 'ন রে টুকু গঙ্গাই ডুব দিয়ে আসি আর কবে আইসতে পাবি কনহ ঠিক আছে। ভজা বইলল হামি নাই রাস্তা জানি। চ 'ন লককে শুধাইয়েই চইলে যাব। 
ছিলা ছকরা গিলাই বইকল হামদের, ই শালারা শুধু ইখেন যাব আর উখেন যাব, তখন নাই গেলি আর। 
সকালে চান তান কইরে আর ভাতের লাইনে দাড়াই গেলি, আইজ আর কলা পারুটি দেই নাই, ত বলি ঠিকেই আছে সকাল সকাল ভাতটাই ভাল হামদের, অনেক ক্ষন ভক লাগবেক নাই। 
ডিম আলুর ঝল, লাউ এর তরকারি আর ভাতটা খাইয়ে মিছিলে বেরহাই গেলি। বিগেড যখন পৌছিলি রে বাপ কি আর বইলব চারধারে শুধু কাল কাল মাথাই দেখাছে, লক ন লক হামি বাপের জন্মে অত লক দেখি নাই। মনে হছে একশটা কাসাই মেলা একসঙে লাগেইছে। একটা কইরে টুপি দিল হামদেরকে, টুপিটা পইরহে আর গাইড়ে বসি গেলিরে বাপ। 
আমি জিজ্ঞেস করলাম তো কাকা ভাষণ কেমন শুনলে ? নেতাগুলো কি বললো ? 
আর চাঁদি ভাষন। ভাষনের ইহা কইরেছে। 
একোও শালা বাংলা বলে নাই। হিন্দি আর ইংলিশ কি হামরা সকল বুঝতে পারি‌ নকি, পেঁদাই হাততালি দিয়ে দিলি সবার সঙ। 
হঁ তবে ওই শতুঘ্ন সিনহা কে চিনহলি, সেই " খামোসস্" টা উয়ারেই ডাইলক বঠে ন !!
তারপর শেষটাই দিদি টুকু বাংলাই বইলল তখন মনটা টুকু ভাল লাইগল। দিদিকে হাত জোড় কইরে নমস্কার কইরে দিলি আর বল্লি, তর দৌলতে ঘরটা হামার দালান হইয়েছে ইবার দেখ মা হামার বিদ্ধ ভাতাটা যেন চালু হইয়ে যায় আর ছিলাটার ওই সিভিক পুলিশটা।
তারবাদে বেরহাই দেখি  হামদের পুরুলার মেইয়ালক গিলাই চৌডল লেগেইছে আর টুসু গীত চইলছে তখন হামার মনটা হইদকে উঠলেক। হামোও টুকু ঝুমুহর হাঁকাই আর লাইচে দিলিরে বাপ। আইসে ক্ষনে দেখি মাংস ভাত, চারপিস কইরে পোল্টি আর ভাত, খাইয়ে নিয়ে ইবার উজাই দিলি ইস্টিশন দিকে আর রাইতের টেনটাই চাইপে সঝা পুরুইলা । 
- তাহলে কাকা বেশ ভালোই ঘোরা হল বল ?
- সে আর বইলতে রে বাপ। বিরাট ব‍্যাপার। 
- তাহলে কাকা চলি এখন আমার একটু কাজ আছে। 
- হঁ বাপ আয়। 
বাইকটাতে উঠতে যাবো এমন সময় পিছন থেকে অত্যন্ত নরম গলায় -  " ভাইপ... "
আমি আবার পিছনে ফিরে, -  হ‍্যাঁ কাকা বল ! 
আইজ ১৫ টাকা দে রে বাপ, হামার ঠিন ২০ টাকা আছে। 
ত্রিশ টাকার একটা দিলসে আর পাঁচ টাকার ভাজাভিজা। 
বলেই একটা লাজুক মার্কা হাসি😁😁
অতঃপর দিলাম ১৫ টাকা। 
আইঘনা কাকা তার সেই চির পরিচিত ভঙ্গিতে নমস্কার করে , 'প্রনাম বাপ হামার' বলে আমাকে আবার হাত নেড়ে সামনে ডাকলো। 
আর কি বলবে ব কাকা ?
কানের কাছে এসে ' ভাইপ গুড ইভিনিং '😁😁
© নীলোৎপল মন্ডল। পুরুলিয়া।