বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Saturday, January 12, 2019

কবি বটু কৃষ্ণ হালদার

কবি বটু কৃষ্ণ হালদার

রাত্রি নামে শহরের বুকে

ছুটন্ত সময় প্রহর গুনতে গুনতে পৌঁছায় পড়ন্ত  বিকালে
সোনালী খামে মোড়া রঙিন  স্বপ্ন গুলো হৃদয়ের খাঁচায় বন্দি করি
পশু, পাখির দল ফিরে আসে আপন আলয়ে
তখনই,  এক গভীর নিঃসঙ্গতায় দিনন্ত শেষে রাত্রি নামে শহরের বুকে
শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া পচা নর্দমার পাশের বস্তি বাসি,  অসহায়রা পায়নি সু খাদ্যের সন্ধান 
আপুষ্টি তে ভুগে যে শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে মৃত্যুর কোল 
ডাষ্টবিন গুলো ভরে যায় দামী উচ্ছিষ্টে 
সারমেয়র দল পাহারা দেয় আষ্টে পিষ্টে গুলমো 
লতার মত
তখনই শহরের বুক জুড়ে নেমে আসে ক্লান্তিহীন, উচ্ছ্বাসের রাত্রি
সমর সম্মুখে বিপদ ভারী বুঝে ও নামে জীবন মুখি পাষা খেলায়
ঠান্ডা ঘরের আলতো লাল আলোর রোশনাইয়ে, 
জীবন ভাসায় কাগজের নৌকায়
এমনি ভাবে ক্লান্তি হীন রাতের শেষে আসবে কাক ভোর
বন্দুক ধারীরা দুয়ারে থাকবে দাঁড়িয়ে, হয়ে যাব খুব চেনা আগন্তুকদের দাস
সেদিন হারিয়ে আবার ফিরে পাবার নেশায়, খেলব জীবন বাজির খেলা
হাতড়ে বেড়াবো আর এক সুখের সময়,

জেগে  থাকব এক নিস্তব্ধ রাতের অপেক্ষায়


আমার শহর

এই শহর আমার প্রিয়,আত্মর আত্মীয়, তিলোত্তমা
দিনে ব্যস্ত, অগণিত মানুষের ভিড় 
কংক্রিটের আবদ্ধ দেয়াল, ফুটপথে যাযাবর দের প্রাণ উচ্ছ্বল বসবাস
প্রাণ পাখি শুধু ডানা ঝাপটায়, শান্তিতে জীবনে পরশ পাওয়ার লক্ষে
সন্ধ্যা নামতেই শুরু চরম উন্মাদনা, নেশার খেলা
গভীর রাতে লাল আলোর রোশনাইয়ে উড়ে বেড়ায় টাকার নোট
বাদশা পদানত বেগমের পদ তলে
চেনা শহরের রূপ বদলায় গির গিটির মত
ব্যস্ত নোংরা রাজনীতির মিটিং মিছিলে 
সু দিনের অপেক্ষায়, স্বপ্ন দেখার  আশায় রাত জাগবে শহরবাসি 
সু দিনের সূর্যদয় দেখার আশায় কাটবে আজ, কাল, পরশু 
ভোর আসবে , ভেসে যাবে রঙিন আলোর স্রোত
লাগামহীন, অস্থির, উৎশঙ্খল, জীবনে তলিয়ে যাচ্ছি অতল সমুদ্রে 
গভীর রাতে লীলা খেলার মাঝে শুনতে পায় না নির্যাতিতা, ধর্ষিতার উচ্চস্বর 
খবর রাখেনি নির্যাতিত বিধবা, পনের আগুনে আত্মহুতি নারী, 
অ্যাসিড হানায় পুড়ে যাওয়া নারীর দমফাটা নিষ্ফল বেদনার 



এই ছেলেটা
এই ছেলেটা ভেলভেলে আমাদের বাড়ি যাবি
থালা ভরে ভাত দেবো মন ভরে খাবি "
মেলার দিনে বন্ধু নতুন পরবো নতুন জামা
গায়ে তোর সেই ছেঁড়া টা আপন চাঁদ মামা"
কংক্রিটের ইমারতে কাটাই যে দিন রাত
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতে তোর আপন যে ফুটপাত "
চাঁদে বসে চরকা কাটে মনের দুঃখে বুড়ি
স্কুলছুট সেই ছেলেটার মাথায় শ্রমের ঝুড়ি"
  এই ছেলেটা তোকে নিয়ে ভাবছি সারাক্ষণ
    তোর দুঃখে সমব্যথি আমার ব্যাকুল মন"



নীরবতা
একরাশ নীরবতার কালো মেঘ ঢেকেছিল হৃদয়ের সরবরে ফোটা পদ্ম এর পাপড়িতে
পাহাড়ের কোল হতে চুইয়ে চুইয়ে নেমে আসা জলের ধারা সাগরে মিশে
মাপতে চায় গভীরতা
তোমার ভেজা শাড়ির আঁচল খানি উড়িয়ে দিয়েছ সাদা মেঘেদের ওই প্রান্তরে
গোধূলির সোনালী রেখায়  ওই দুর প্রান্তের রাখালিয়া বাঁশির সুরে আমি ও গাইব নীরবতার
গান
উষ্ণ বালুরাশির মরিচিকার মাঝে থাকব দাঁড়িয়ে
শুধু তোমার আসার অপেক্ষায়

বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন
তোমার আসার কথা ছিল সেদিন শান্ত স্নিগ্ধ ভোরাইয়ের রোশনাই মাখামাখি পুকুরপাড়ের
শিশিরের বিন্দু জোড়ানো কলাপাতায়
হলুদ পাখির মিষ্টি সুরে হারিয়েছে অব চেতন মন
দিনের নিয়ম মাফিক রুটিন এলোমেলো কিভাবে তোমাকে সম্বোধন করবো ভাবছি সারাক্ষণ
জানালার পাশে বসে দক্ষিণ বাতাসের কাছে জানতে চেয়েছি
মেলেনি উত্তর, সে ও চলেছে আপন খেয়ালে
ডায়েরির পাতায় লিখলাম অনেক কিছুই আঁকা বুকি কাটা কুটির খেলা অন্তরের শ্বাস প্রশ্বাস বড়ই
খোলামেলা বেহিসেবি সেদিন হঠাৎ সহসা সঘনে পূর্বের ঈশান কোন হতে বৃষ্টি নেমেছিল ধেয়ে


খুকুর নাচ

টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে পদ্ম পাতার গা 'য়
দু হাত তুলে নাচছে খুকু ভারী মজা পায়"
ভিজছে কাক,বক,শালিক নীড়ে পাখির ছানা
আয় ঝাঁপিয়ে বৃষ্টি ওরে ভিজতে নাই রে মানা"
জল টুপ টুপ পড়ছে ফোঁটা কলাপাতার গায়ে 
রুনু ঝুনু বাজছে নূপুর খুকুর দুই টি পায়ে"
দূর নীলিমায় তাকিয়ে খুকুর দুঃখে ভরে মন
বৃষ্টি তুমি নাই বা গেলে থাকোনা সারাক্ষণ"
টুপ টুপ বৃষ্টি ধারা য় আবছা জানালার কাঁচ
আয় দেখে যা তোরা খুকুর বাঁধন হারা নাচ "




বিদ্যাসাগরের প্রতি

এই জগত সংসারে শিক্ষার শুরু, শেষ তুমি ভব সিন্ধু 
দিয়েছ পাড়ি জগ সিন্ধু ওই পার অনন্ত নীল সীমানায় 
রেখে গেছো এ নশ্বর হৃদয়ে একরাশ কালো মেঘ
মায়ের আকুতি হৃদয়ের টানে মহা সিন্ধু পারাপার 
ম্লান মহা সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ মহা বারিষনে 
 পরের তরে অবারিত অবিচল অশ্রুধারায় আপন হৃদয় 
কাঁদিয়েছ এ মায়ার জগত সংসারের 
তুল্য, মুল্যহীনরা আজ বর্তমান সমাজের রাশ নিয়েছে হাতে
গুণী, বিদ্য, সংস্কার পন্থীরা আজ অতীত স্মৃতির মণি কোঠায়
অজ্ঞ, অদক্ষরা পুতুল নাচের আসরের বিধাতা
সংস্কার, কুসংস্কার এর মধ্যমনি আজও উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত আলো বিকিরণ এর চেষ্টা অবক্ষয়
সমাজে 
শিক্ষা প্রাঙ্গণ আজ কলঙ্কিত, আধুনিক যুগে ও কুসংস্কারের মধ্যে উজ্জ্বল হয় সমাজের রং 
নারী সন্মান, সু শিক্ষায় পথ চলা সবই আজ অতীত 
তবু আজও তুমি করুণা সিন্ধু ভবের গুরু বিদ্যাসাগর 






বটু কৃষ্ণ হাল দার
 HARIDEV PUR 
KOLKATA. 700104 


No comments:

Post a Comment