বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Friday, January 11, 2019

কবি শ্যামল কুমার রায়


কবি শ্যামল কুমার রায়

পরকীয়ার ইতিবৃত্ত 

স্বত্ব, রজো, তমো - 
এই তিন গুণে গুণান্বিত মানুষ মেনো।
স্বত্ব, রজো গুণে গুণান্বিত মানুষ, 
ধর্মের অনুশাসনে চলা মানুষ ।
ষড় ঋপুতে নন এঁরা আক্রান্ত, 
কামানলে নন এঁরা বিভ্রান্ত -
পরস্ত্রী তে এঁরা কখনও হন না আসক্ত ।
সন্তুষ্ট থাকেন এঁরা নিজ পত্নীতে ।
যেখানে কৃমি, যেখানে মেদ - 
সেখানে দিয়েছেন এঁরা পূর্ণছেদ।
তাবলে কি এঁরা জীবের ধর্ম পালনে ব্যর্থ? 
নিজ স্ত্রী ব্যতীত, পরস্ত্রীতে এঁরা অনাসক্ত।
সমস্যা যত তমোগুণী মানুষকে নিয়ে -
নিষ্কাম কর্মে এরা নয়কো ব্রতী , 
জড় বন্ধনে এদের যত অধগতি।
কর্মচঞ্চল এরা নয় সকলে - 
অলস আসলে এরা সকলে ।
যত আসক্তি এদের পরস্ত্রীতে , 
চরম উৎসাহী এরা বর্ণ-সংকর সন্তান উৎপাদনেতে ।
এতো  ছিল পাঁচ হাজার বছরের পুরনো ধর্মের দূরদৃষ্টি ।
শাশ্বত এই বাণী ছিল চিরস্থায়ী ।
তবে তপোবন হতে গুহা মানব, 
বিবর্তিত হয়ে হয় ফ্ল্যাট মানব, না হয় নিউক্লিয়ার ক্যাপল্ । 
ফ্ল্যাটের ফ্লার্ট চলছে জমিয়ে বেশ !
প্রথম প্রেমের উষ্ণতার আর তেমন নেই কোনো রেশ, 
দাম্পত্যের একঘেয়েমিতে আজ সব নিঃশেষ।
ব্যস্ততার ফাঁকে সময় বড়ই কম, 
দায়সারা খোঁজ নিয়েই দায়িত্ব সব শেষ! 
সদ্য জয়েন করা কলিগের সাথে ফ্লার্ট চলছে বেশ!
বয়সটা এখানে এক্স ফ্যাক্টর জেনো ।
মধ্যরাতে প্রতিদিন লিফট দিয়ে দেয় কেউ ।
ভোর রাতে আর ঘর ফিরে কি আর হবে ? 
বেনামে বুক করা ফ্লার্টেই যাওয়া যাক ।
এই পথের যাত্রী কেবল  সদ্য কাজে যোগ দেওয়া যুবক - যুবতীই নয়! 
ভরা সংসারের সফল মানুষজনও আছে এখানে ।
সম্পর্কের উষ্ণতা খোঁজে পরস্ত্রীর মধ্যে ।
পরকীয়া যে খুব দোষের সব সময়, তাও কিন্তু নয়।
দীর্ঘদিনর  দাম্পত্যের মধ্যে উদাসীনতাও আসে? 
সম্পর্কের মধ্যে শূন্যতা নয় ভালো ।
শূন্যস্থান জগতে যে শূন্য থাকার নয় ।
গোপনে চলা এই পরকীয়া গোপন থাকে না যে।
নতুন সম্পর্কের উষ্ণতা বাঁধ মানে না যে।
এক খাপে থাকে না যেমন দুটো তলোয়ার; 
মনের ঐ একই ফ্রেমে কি করে থাকে দুই প্রিয়তমা? 
শিফট ডিলিট পরে যে চিত্রপটে, 
যন্ত্রণার ছটফটানি ফোটে সেই মানসপটে ।
পরকীয়া কী শুধু উচ্চবিত্তেই ঘটে? 
এমন ভাবনাটা যে সিদ্ধান্তর অতি সরলীকরণ বটে ।
কৈশোর আর যৌবনে ভালোবাসাবাসি , কাছে আসাআসিও যে আছে ।
বাড়ির চাপে অন্যের সাথে পরিণয় সূত্রে বাঁধা পরাও আছে ।
নতুন দাম্পত্যের অধিকারে শরীর দেওয়া নেওয়া হয়তো বা আছে ! 
সুর আর ছন্দের তালে, তাল মেলানোও চলে।
কিন্তু, প্রথম প্রেম! ভোলা যায় কি সহজে? 
কৈশোরে মন দিয়েছিলাম যাকে, তার সাথে ঘর বাঁধতে
 না পারার সব দায় কি আমার? 
আজ যদি ফিরি ফের তার কাছে, 
সমাজ যে কুলটা বলবে , তা ভালোই জানা আছে ।
নষ্ট পুরুষ আর নষ্ট মেয়েমানুষ আছে হাজার, 
সব সম্পর্কের এতে হবে না বিচার ।
অভাবের তাড়নাতেও শরীর দেওয়া নেওয়া হয়।
তাবলে তাকে কি পরকীয়ার তকমা দেওয়া যায়?
বিকিকিনির হাটে তো সবই বিক্রি হয় !
শরীর বিক্রি করলে গণিকা পরিগণিত হয়। 
সিক্রেট সার্ভিস এতেও তো টাটকা শরীর বিক্রি হয় ! 
তাবলে, তা কিন্তু পরকীয়া নয় ।
পরকীয়াতে হয় না শুধু শরীর আদান প্রদান, 
মন কষাকষি, ভালোবাসাবাসি সবই এখানে সমান। 
সাতপাকে বাঁধা পুরোনো সঙ্গীকে ভালো লাগে না আর ।
নতুন সম্পর্কের উষ্ণতায় রোমাঞ্চ জাগে ।
যৌবনের স্বাভাবিক ধর্ম মধ্য বয়সেও দারুণ লাগে।
পরকীয়ার বলি শুধু দাম্পত্যই নয়, 
সন্তান - সন্ততি ও এতে বলি প্রদত্ত হয় ।
সুস্থ সমাজ সংস্কৃতির লক্ষ্যে পরকীয়া নিন্দিত ছিল ।
আইনি বৈধতা তাতে উৎসাহই দিল। 
যা কিছু নতুন, তাই বিতর্কিত ।
চায়ের কাপে আর খবরের কাগজে আজ পরকীয়া বহু চর্চিত ।
বির্তক এক সময় নিশ্চিত থেমে যাবে ।

সমাজই ঠিক করবে পরকীয়া থাকবে না যাবে।

.

অনুশোচনা
--------------
ববন্ধুবরেষু, প্রিয় সাথি!
অনুশোচনার আগুনে হচ্ছি যে দগ্ধ ।
অপশব্দ প্রয়োগের যন্ত্রণা ভারী ,
সহজে কি তা ফিরিয়ে নিতে পারি ?
শব্দ আসলে পরম ব্রহ্ম, 
শ্রীমুখ থেকে  একবার বেরিয়ে যদি যায়, 
তাকে ফিরিয়ে নেওয়া সত্যিই দুষ্কর! 
শিশুপালেরও হয়েছিল একই ভুল, 
একশতম অপশব্দ করেছিল সে পার, 
সুদর্শন চক্রে ছিন্ন হয়েছিল মস্তক তার ।
আশ্বস্ত আমি শুধু এইখানে, 
একটি মাত্র অপশব্দের প্রয়োগ হয়েছিল একবার, 
অনুতপ্ত হয়ে শুদ্ধ হয়েছি এবার ।
.

 বিদায় সংবর্ধনা 
--------------------
শিক্ষার্থী-মানসমণি, শ্রাবণী দিদিমণি, 
গুটি গুটি পায়ে কর্মজীবন করলে পার! 
আইনের বেড়াজালে, আজ তোমার অবসর ? 
শুক্তি এই বিদ্যালয়ের শেষ সাক্ষী তুমি ।
নব কলেবরে গড়ে ওঠা এই বিদ্যালয়েও ছিলে তুমি ।
বিদ্যালয়ের সকল ওঠা-পরার সাথে জড়িয়ে  ছিলে তুমি । 
তোমার মুখে না শুনেছে, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার ! 
সব ব্যাপারেই সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গি তোমার ।
তোমার এই দীর্ঘ কর্মজীবনে কত প্রজন্ম হল পার , 
তোমারই দেওয়া শিক্ষা পেয়ে, তারা প্রতিষ্ঠিত যে যার ।
শুধু যে পরা বিদ্যারই শিক্ষা দিয়েছো, ভাবলে বড় ভুল হবে, 
অপরা বিদ্যারও দীক্ষা দিয়েছো তুমি ।
ন্যায় , নীতি, আর্দশ ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়েছো তুমি । 
অপরাহ্ণের এই বিদায় বেলায়, দীর্ঘায়িত ছায়া তোমার ।
দীর্ঘ এই কর্মজীবনে রেখে গেলে তুমি দাগ ।
তোমারই দেখানো পথে চলতে হবে আজ , 
আজ তুমি চলে যাবে, ভাবতে কষ্ট হয় বড় ।
শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী মহলে শূন্যতা খুব ব্ড়,
তোমার অনুপস্থিতিতে  আমরা কেউই হব না খুশি ।
অবসরের মাঝে, যদি অবসর খুঁজে পাও , 
তোমারই পদধূলিধন্য বিদ্যালয়ে এস আবার ।
স্মৃতির মণিকোঠায় অমলিন রবে তুমি ।
তোমার নিজের কর্মকুশলতায় প্রাতঃস্মরণীয় তুমি, 
ভুল ত্রুটি যদি কিছু হয়ে থাকে, নিজ গুণে ক্ষমা করো তুমি । 
সকলের কাছেই তুমি স্নেহময়ী জননী ।
      -----------------------------------
.প্রীতি উপহার
শুধু উপহার শব্দটা কেমন যেন ন্যাড়া, ন্যাড়া লাগে, প্রীতি উপহার হলে শুনতে বড় ভালো লাগে, কলেজে পড়ার সময়ে, হাত খরচ ছিল খুব কম, তোমায় প্রপোজ্ করার দিনে, উপহার ছিল না খুব দামী, রাংতা মোরা ছোট্ট গোলাপ দিয়ে প্রপোজ্ করেছিলাম আমি । খোঁপায় গুজে ঐ ছোট্ট গোলাপ, কেড়ে ছিলে, তুমি আমার হৃদয় , বড়লোক বাবার রাজকন্যে তুমি । আমার ঐ ছোট্ট উপহার ছিল তোমার কাছে সবচেয়ে দামী । ভালোবেসে তোমার দেওয়া , ঐ হলুদ পাঞ্জাবি, সরস্বতী পুজোয় ওটাই ছিল আমার সবচেয়ে উপহার দামী । কলেজের ঐ দিনগুলো তো কেটে ছিল বেশ - সোহাগ মাখানো প্রীতি উপহারের ভালোই ছিল রেশ । কলেজের পাঠ শেষ হতে না হতেই হল শুরু পীড়াপীড়ি, বয়সে বড় প্রতিষ্ঠিত পাত্র মিলেছে তোমার ভারী, চার হাত এক করার জন্যে হল চলল হুড়োহুড়ি , তখন চালচুলোহীন এক বেকার যুবক আমি । শ্রেয়সীর ভার তুলে নেওয়ার ছিল না মোটেই ধক - অক্ষমতার ঐ বেদনা ভরা উপহারে অশ্রুস্নাত তুমি, ছোখের জল লুকিয়ে রেখে অন্যের প্রেয়সী তুমি । ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস , শ্রেয়সী? তুমি চলে যাওয়ার পরেই প্রতিষ্ঠিত আমি । কর্পোরেট ঐ ওয়ার্ল্ডে আমি প্রতিষ্ঠিত - তোমার সেই প্রতিষ্ঠিত স্বামী , আজ আমারই অধীনস্থ । তোমায় ছাড়া পত্নী রূপে কাউকে ভাবতে পারি না আমি । প্রতিষ্ঠিত হয়েও আজ অবিবাহিত আমি ! বিধাতার এই নিষ্ঠুর উপহার বড্ড ভারী লাগে, সব থেকে ও আজ তুমি নেই, বড় একা লাগে । দাম্পত্যের ছ’বছর পরেও নিঃসন্তান তুমি? 'বাঁজা মাগী' নামের উপহার, পেলে শ্রেয়সী, তুমি! শ্বশুর বাড়ি থেকে তুমি, হলে বিতাড়িত, ভাই ভাজের সংসারে অপাঙতেয় তুমি! আমার ঐ ভগ্ন হৃদয়ে সেরা উপহার তুমি । তোমার সিঁথিতে সিঁদুর উপহার ফিরিয়ে দিলাম আমি । শুরু হল দাম্পত্যের এক নতুন পথ চলা । নারীত্বের সেরা উপহার পেলে সেদিন তুমি - আমার ঔরসজাত দিয়া'র গর্ভধারিণী হলে তুমি । ইম্পোটেন্ট কে ছিল ?- অপ্রাসঙ্গিক হল আজ । উপহার দেওয়া নেওয়ার পর্ব হল শেষ, সুখী দাম্পত্য ফিরে পেয়ে, অপূর্ণতা হল শেষ, সুখের সময়ে দেওয়া নেওয়া,প্রীতি উপহারের ছড়িয়ে আছে আবেশ।

.

বিরহিণী

কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ, মেমারি কলেজে ভর্তি হলাম তখন, তোর সাথে মোর পরিচয় হল ক্যান্টিনে - তোকে দেখে লাজুক হাসি ছিল আমার মনে - কিছুতেই চোখ সরে না তোর দিক থেকে । ভরা ক্যান্টিনে কে আছে , আর কে নেই - গৌণ আমার কাছে - তোকে ডেকে পাশে বসাতে প্রবল ইচ্ছে করছে। লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে ছুঁড়ে দিলাম কিস্- যদিও তুই চকোলেট বয়, তবু করলি না এটা মিস্ । আমার ঐ ফ্লাইং কিস্ এ তুই বেসামাল - মেয়ে হয়ে এ কাজ যদি আমি করতে পারি? তোর যে আমায় ভালো লাগে , বলতে করলি কেন দেরি? তোকে ছাড়া ভালো লাগে না, পড়ায় কিছুতেই মন বসে না, বইয়ের ঐ অক্ষরগুলো সব যায় গুলিয়ে - বইয়ের ঐ প্রতি পাতায়, কেবল তোরই ছবি মেলে। আমার এই কারকতা বুঝলি তুই আর কই? মোটা মোটা সব বইয়ের ভেতর ঢুকলি কেবল তুই। ইউনিভর্সিটি টপার হলি, তুই যেবার - আমার ও থার্ড ইয়ার কমপ্লিট সেবার । ইউনিভর্সিটি তে ঢোকার সময় , দেখা তোর সাথে - তুই সেই একই রকম মোটা বইয়ের সাথে। সেদিনই প্রথম যেচে, বললি তুই কথা, তোকে খুব মিস্ করি, সত্যি বলছি কথা, পড়ার ফাঁকে ভাসত তোরই কেবল মুখ, মুঠোফোনটা অধরা আজও আমার কাছে, ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ স্বপ্ন আমার কাছে । জানলাম তুই থাকবি এখানে আর ও তিনটে বছর, জে. আর . এফ. পেয়েছিস, ঘুচল অভাব তোর । তুই আর আমি এক সাথে গেলাম ই - মলে, মনের মতো করে সাজিয়ে দিলাম তোর মুঠোফোন, আমার সাথে সেলফি তুলে তোর চোখে এল জল, আমায় যে তুই ভালোবাসিস, তাতে কিসের এত ছল? আমার ছবি স্ক্রিন সেভার, করলি যখন তুই - চোখের জল আটকে রাখতে , পারলাম আর কই? চারহাত এক করার স্বপ্নে দুজনেই তখন বিভোর, এমনি করেই কেটে গেল আরও দুটো বছর , কলেজের ঐ উঁচু পদে বসলি তখন তুই, সংগ্রামে সংগ্রামের এক বড় নজির গড়ে দিলি তুই। এমনই এক হেমন্তের দিনে রাঙিয়ে দিলি সিঁথি, চিরতরে আপন হলো, তোর সেই পুরনো বীথি

.

প্রভাতী
     ---------
ভোরের সূর্য উঠল প্রাতে,
সর্ণাভকে জাগিয়ে দিতে,
কঠোর শ্রম হবে ছাত্রাবস্থাতে,
সোনালী দিন আসছে আগামীতে,
স্বপ্ন পূরণ হোক তোমার -
গর্বে উৎফুল্ল হোক পিতৃ হৃদয়,
মাতৃ চরণে হয়ো প্রণত -
স্বাগত জানাবে গুণমুগ্ধ যত।

    -----------------------
.
প্রেয়সী

ধর্মযুদ্ধে পরাস্ত আমি,
বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ধর্মপত্নী,তুমি!
চোখাচোখা তোমার প্রশ্নবাণে,
পরাভূত করেছো তব স্বজনে।
বাকপটু বলে পরিচিত আমি,
কিন্তু, তোমার সম্মুখে কেন বাক্যিহারা আমি?
বাক্ যুদ্ধে হারানো যাকে ভার,
তোমার সম্মুখে উত্তর খুঁজে পায় না আর ।
বড় অপরাধী লাগে নিজেকে!
তোমার অভিমানের কোন জুতসই উত্তর খুঁজে পাই না যে।
জানি, তুমি আমায় নির্বোধ ভাবো,
বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে তোমার সাথে চলতে যাব না গো।
সুখে দুঃখে তোমার সাথে অনেকগুলো বছর করেছি যে পার !
প্রেয়সী! লুকোনো ব্যথা, লুকোনো অভিমান নজর এড়ায় না আমার ।
হৃদয় দিয়ে বুঝেছি আমি,
তোমার ভরসা স্থল যে আমি ।
তটস্থ হয়ে থাকি আমি,
তোমার ভরসার মর্যাদা রাখতে, পারব তো আমি?
চারিদিকে শুনি পরকীয়ার হাতছানি,
কিন্তু, হৃদয় পটে যে আঁকা তব শ্রীমুখখানি!
আসলে, তুমি আর কেউ  নও জানো?
তোমারই অলক্ষ্যে , তুমি আমারই বিবেক যেন!
চারিপাশে ঘিরে থাকা 'রতি' যত,
ওদের থেকে আমি বিরত তত।
বীরপুঙ্গব বন্ধু আছে যত,
স্ত্রৈণ বলে ব্যঙ্গ করেছে কত ।
কি এসে  যায়, এতে বলত?
নাইবা পারলাম সুখী হতে?
সব প্রশ্নের তোমার উত্তর দিতে!
নাইবা হল দেখা বৈভবের ঐ দিন কটাকে?
সাঁঝবাতির ঐ মৃদু আলোয়,
যখন তুমি নয়ন মেলো,
খুঁজে পাই না আমি আর,
বৈভবের আর কি দরকার?
সুখের ঐ পরশ মেলে,
যখন তুমি ফেলো বলে -
" কিচ্ছু চাই না আমার আর ,
তোমায় ছাড়া আমার আর কিসের দরকার? "
.

 অবয়ব

ঈশ্বরের কী অপার মহিমা, 
কারোর অবয়বের সাথে কারোর মেলে না ।
পুরুষ হোক বা প্রকৃতি, অবয়ব সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির ।
কিন্তু হাড়, রক্ত, মাংস সবই তো একই, 
প্রচ্ছন্ন কেবল মনের তফাত, 
সৃষ্টির প্রয়োজনে আরো ফারাক আছে - 
শরীরেই কেবল লিঙ্গ ভেদ আছে ।
আত্মায় কোন লিঙ্গ ভেদ নেই - 
অবয়বের খুঁটিনাটির তাই কোন প্রয়োজন নেই ।
আত্মা যতক্ষণ দেহ ধরে আছে, অবয়বের পালিশ চলছে ধরাতে ।
অবয়ব নিয়ে প্রতিযোগিতা কত! 
কেউ বা সুন্দরী, কেউ বা বিশ্বসুন্দরী শিরোপা নিচ্ছে তো! 
অবয়বের আকর্ষণে মুগ্ধ তো আমরা সবাই, 
শিশু মুগ্ধ মাতৃ অবয়বে, প্রেমিক মুগ্ধ প্রেমিকার অবয়বে , 
ভক্ত মুগ্ধ শ্রী ভগবানের অবয়বে , 
অবয়ব কি তাহলে ফ্রেমে বন্দি ? 
সত্যিকারের প্রিয় অবয়ব হৃদয়ে বন্দী - 

চোখ বুজেও চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে প্রিয় অবয়বটি।

.
.
ফিরে দেখা ভালোবাসা 


' ভালোবাসা ' শব্দটা  বড় গোলমেলে, 
মধ্য আটত্রিশে দাঁড়িয়ে পর্যালোচনা চলে ।
শৈশবের ভালোবাসা অপত্য স্নেহ , 
শিশুর কাছে অসহায়ের আত্মসমর্পণ জেনো।
বাবা - মায়ের ভালোবাসা এখানে কুক্ষিগত যেন-
অপত্য স্নেহের ভাগ হয় না কোনো ।
নিজেদের দাম্পত্যের অপূর্ণতা যত , 
সব পূরণের দায়ভার ঐ ছোট্ট শিশুটার উপর, 
সমান ভালোবাসা নয় এখানে, 
প্রত্যাশার পারদ উর্দ্ধমুখী যেখানে ।
সারদা মায়ের কথা অমৃত জেনো - 
প্রত্যাশা শূন্য ভালোবাসা সমান ভালোবাসা মেনো।
প্রেমিকের ভালোবাসা মোহে আচ্ছন্ন, 
স্বামীর ভালোবাসা পুরুষতন্ত্রে  দীর্ণ ।
প্রেমিক আর স্বামী এক হয় না কখন ও, 
একই ব্যক্তির দুই রূপ স্পষ্ট এখনও ।
প্রেমিকার ভালোবাসা পুরো ইনফ্যাটুয়েশন , 
ভালোলাগা আর  ভালোবাসার ফারাক বোঝে না ।
দাম্পত্যের ভালোবাসা উদ্দাম কত! 
শরীরী আকর্ষণের তীব্রতা যত।
শরীর পেরিয়ে যখন ভালোবাসা আসে , 
ভালোবাসা তখন পোষ মেনে অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে।
ভালোবাসার ভাগ দিতে সায় দেয় না মন, 
শাশুড়ি বউয়ের কলহ এর অন্যতম কারণ ।
দেশের প্রতি ভালোবাসা ছিল এক সময় , 
বিনয় - বাদল - দিনেশ ছিল সেই সময় ।
আজকের চোখে ক্ষুদিরাম বোকা, 
দেশের জন্য প্রাণ দেবে পাশের বাড়ির ছেলেটা ।
আমাদের ছেলে মেয়ে কেরিয়ার গড়বে, 
নিজেকে ভালোবাসে বিদেশে পাড়ি দেবে ।
ভালোবাসা এখন আত্মকেন্দ্রিক , 
পাড়া - প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক বাহ্যিক ।
জনজীবনে পরছে এর প্রভাব ব্যাপক জেনো , 
নিঃসঙ্গতার শিকার আমরা হচ্ছি কখনও কখনও । 
ভালোবাসার এই অভাবে শূন্যতা খুব বড়, 
শূন্যস্থান পৃথিবীতে থাকে না কখনও, 
শূন্যতা পূরণে বড়ই তৎপর ব্লু - হোয়েল আর মোমো।

.
.
অনুকবিতা "ভালো থাকা"
"রোজ রোজ ভালো থাক, সুখের পরশ মেখে থাক, শান্তি সুধা বর্ষিত হোক অবিরাম , তোর সুখেতে সুখী হোক তোর প্রিয়তমা, হাসি, খুশিতে মেতে উঠুক তোর আঙিনা । "

.

শরৎ

  
শরৎ , তুমি বড্ড কৃপণ, 
জগৎ জুড়ে আসো না, 
বাংলা মায়ের কোলটি ছেড়ে, 
ভুবন জুড়ে থাকো না ।
পৃথিবীটা যে বড্ড ছোট, 
ওয়েব জালে বন্দি ।
মানিকতলা আর ম্যানহ্টান করেছে যে সন্ধি ।
বর্ষার ঐ ভরা যৌবনে নদী ও কুমারী, 
শরতের ঐ হিমেল পরশে প্রকৃতি ও সুন্দরী।
খোঁপায় গুজে কাশফুল তুমি রূপবতী, 
কৈলাসের ঐ শ্রীময়ী আসে তব ঋতুতে, 
আপামর বঙ্গবাসী মাতে উৎসবে।
নিউজার্সির ঐ বাঙালি পাড়ায় শ্রীময়ী পূজিত, 
ঘরকুনো সেই বাঙালি আজ বিশ্ব ব্যাপিত ।
বাংলায় তুমি খুশির হাওয়া, বৃষ্টি থেকে মুক্তি, 
ভাদ্র আশ্বিন এই দুই মাসেতেই উৎসবেরই ব্যপ্তি ।
সম্প্রীতির এই বাংলাতে পরব - পার্বণ একসাথেতেই ঘটে,
জাতি ধর্ম নির্বিশেষে উৎসবেতে মাতে।
জগতেরই ঐশ্বর্য যত তোমাতেই মুখরিত, 
সোনালী ঐ ধানের শিষে প্রান্তর প্লাবিত ।
গরীবের ও ঠোঁটে ফোটে এই সময়েতে, 
অন্ন বস্ত্র বিতরণ হয় পরব - পার্বণেতে ।
শরৎ তুমি গ্লোবাল হচ্ছ না কেন? 
ম্যানহ্টানে এই সময় শীত আসে জান?
" রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি" - 
কথাটা সত্যি নয়কো আজ, 
ঘরকুনো বাঙালি আজ কর্পোরেট - গ্লোবাল ।
মহাষ্টমীর সন্ধ্যা আরতি হয় সর্বত্র, 
শরতের আমেজ থেকে বঞ্চিত কেন থাকে পাশ্চাত্য? 
কনকনে ঐ ঠান্ডাতে কাঁপছে ওরা, 
উৎসবের আমোদে তবু মাতছে ওরা ।
শরৎ তুমি ছড়িয়ে পড়ো বিশ্ব জুড়ে, 
মধুমাখা তব হিমেল পরশ ছড়াক সাগর পাড়ে ।
.
.



ললনা

সিক্তবসনা ,  বঙ্গললনা !
করো না তুমি এমন ছলনা ।
ঝিরঝিরে ঐ বৃষ্টি মাঝে,
জলের ফোঁটায় তোমার বেণী ভেজে ।
টোল পরা ঐ মিষ্টি গালে ,
আঁচল দিয়ে জল মুছলে ।
সদ্য ফোটা ঐ দুটো ফুলের কুঁড়ি,
না তাকিয়ে কী থাকতে পারি  ?
উদাসীন তুমি বড্ড বড় !
নিজ বিভঙ্গ কেন মুক্ত করো ?
লালা ঝরাণো পুরুষ যত,
শারমেয় সম আছে তত ।
বয়সের বিচার করে না ওরা !
রমণীর জন্যে যে পাগল ওরা।
চেতনা ওদের হয়েছে লুপ্ত,
সুপ্ত কামনা হয়েছে উন্মুক্ত ।
তোমায় দেখার অধিকার তার,
তোমার সিঁথিতে সিন্দুর যার ।
নারীবাদীরা ধরবে চেপে -
পুরুষ কি তাহলে পশু বটে ?
কবে পুরুষ মানুষ হবে?
শরীর পেরিয়ে দেখতে শিখবে ?
জীবের ধর্ম নষ্ট হবে না ওতে।
তফাত গড়বে শুধু মানুষে পশুতে।
.
.
খোলা চোখে নারী
ঘোর কাটেনা আমার আজ রাতেতে,
বুঁদ হয়ে আছি আমি তোমাতে,
পুলকিত হই তব বিভঙ্গতে ।
আশ্চর্য হাতছানি তোমার আবেদনেতে,
ক্লান্তি আসে না কখনো তোমায় দেখতে দেখতে।
জগতের সেরা সৃষ্টি তুমি ,
অনন্যা তুমি পরমা ।
কে যে সেরা নারী? -
হিসেব কিছুতেই মেলাতে না পারি।
তোমার গালের টোল খাওয়া হাসি,
কম বেশি আমরা সবাই ভালোবাসি।
সদ্য স্নাত এলো চুলে,
ঝোলানো বারান্দায় তুমি এলে,
বখাটে ছেলেরা পথ ভুলে,
নানা অছিলায় তোমার সামনে এলে,
ফ্লাইং কিস্ তুমি ছুড়ে দিলে ।
জেগে স্বপ্ন দেখে ওরা,
তোমার জন্য হাতাহাতি করে যত দুষ্টু ছোঁড়া ।
কখনো বা মিনিস্কার্টে, কখনো বা স্কিন টাইটে,
অ্যসাম তুমি সব অ্যাটায়্যা(র) এতে।
বাগ্-দেবীর ঐ পুজোর দিনে আগুন রঙা ঐ শাড়ির টানে,  
হাই হিল আর ঝুমকো কানে,
মিষ্টি তুমি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে ।
রেহাই কী আর আছে তাতে,
যতই থাক সিঁদুর সিঁথিতে ।
নবোঢ়া দেখার ঝোঁক কি কেউ ছাড়তে পেরেছে?
শিকারী চোখ খোঁজে সর্বত্র,
নারী শরীর যত্রতত্র।
জানি তুমি তিরিশোর্ধ রমণী ।
ঋতুমতী হওয়া তোমার এখনো থামেনি ।
আটপৌরে আজ তুমি অনেকখানি।
দুই সন্তানের জননী যে তুমি রমণী!
খেয়াল থাকে না সব সময়েতে,
আঁচল ঢাকছে কিনা ঠিকঠাক শরীরটাকে?
কামুক চোখের লোলুপ চাউনি তোমাতে ,
অতৃপ্ত বাসনা তৃপ্ত করছে শেণ  দৃষ্টিতে।

.


দ্বিখণ্ডিত দাম্পত্য

দ্বিখণ্ডিত আজ দাম্পত্য সম্পর্ক,
চাকুরিজীবী দম্পতির মাঝে সময়ই বড় দূরত্ব ।
অবরুদ্ধ আজ আবেগের আদান প্রদান,
সম্পর্কের মাঝে সময় বড়ই ব্যবধান ।
সম্পর্কের শূন্যতা থাকে না কখনও,
মন খুঁজে নেয়, মনের মানুষ কখনও সখনও ।
যাওয়া আসার ঐ একই পথে-
কেউ কেউ খুঁজে নেয় মনের মানুষকে ।
দম্পতির ঐ মনের ফ্রেম অক্ষতই থাকে;
মনের ফ্রেমে জোড়া লাগানো মানুষটাই কেবল বদলাতে থাকে!
পুরুষই কেবল একাজ করে , মানতে নইকো রাজি,
নারী পুরুষ এখানে যেন ' মিঞা - বিবি রাজি ' ।
সম্পর্কের গভীরতা যখন থাকে একদিকে,
শূন্যতা আর হাহাকার চলে আর এক দিকে ।
কে যে দোষী এখানে খোঁজা বড়ই কঠিন!
দ্বিখণ্ডিত দাম্পত্যের মাঝে , সময় মলম হলে,
দাম্পত্যকে দ্বিখণ্ডিত করতে ব্যর্থ নিকোটিন, তাই তো সবাই বলে
.
.
জীবনমুখী

তোমাকে দেখি আমি মনের আয়নায়,
সম্পর্কের তিক্ততা ওতে দেখা যায় না  ।
ভিড় করে আসে যত সুখের স্মৃতি,
টাটকা বেদনা, যাতনা আছে জমা যত,
খরচের খাতাতে ওরা বিসর্জিত ।
সংখ্যার নিরিখে ওরা মোটেই নয়কো লঘু,
কলহের সাপেক্ষে ওরা আজও সংখ্যাগুরু ,
কে বলেছে বাঁচা যায় না, অতীত কে ভুলে?
অতীতের তিক্ততা যাক রসাতলে ।
অতলে তলিয়ে যাবে বেদনা যত,
সুতলে ভাসিয়ে দেব কুৎসা, দোষারোপ শাশ্বত ।
ভগীরথের গঙ্গাতে দেব আমরা ডুব,
পবিত্র হব আমরা গঙ্গাতে ডুবে,
কুৎসা, অপপ্রচার আর পাবে না ছুঁতে ।
নতুন সূর্য দেখব সে প্রভাতে।
আছে যত ভাঙা সাজ সরঞ্জাম,
তাই দিয়েই শুরু হোক জীবন সংগ্রাম,
বাড়িয়ে দিয়েছি আমার হাত -
ভরসা করে ফের হাতে রাখো হাত,
যতক্ষণ আছে হৃৎস্পন্দন,
ততক্ষণই চলুক জীবন সংগ্রাম ।
লড়াই না করে হারতে নইকো রাজি,
শুনেছো তো ঐ পুরনো কথাটা -
"মিঞা  বিবি রাজি, তো কেয়া করেগা কাজী।"

..


  জন্মদিনের শুভেচ্ছা 


" নতুন পৃথিবীতে স্বাগত নবজাতক, 
তোমার আগমনে উচ্ছ্বসিত এ শতক।
তোমার কাছে কৃতিত্বের ছাপ দাবি করছে এই শতক।
জানি এখন তুমি বড্ড ছোট, 
সুস্থ সবল বড় হয়ে ওঠো ।
উজ্জ্বল হোক আব্বু - আম্মির মুখ, 
তোমার সাফল্যে শঙ্খধ্বনি উঠুক । "

.



জন্মদিনের শুভেচ্ছা 

৩০ শে সেপ্টেম্বর শুভ দিন, 
সার্থক এর শুভ জন্মদিন, 
প্রতিটা দিনই হোক শুভ, 
এ কামনাই কেবল করব।
সকলের স্নেহাশিস বর্ষিত হোক তোমার উপর, 
দীপ্ত কণ্ঠে, বলিষ্ঠ পদক্ষেপে স্বাগত জানাচ্ছে তোমায় 'আগামী '
আগামীর ডাক উপেক্ষা করো না তুমি! 
নতুন সূর্য হয়ে কিরণ দিও তুমি ।

.

কবি পরিচয়
সহ শিক্ষক,
নবগ্রাম ময়না পুলিন বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়।
Shyamal Kumar Roy
Village, Post and Police Station Jamalpur
District Burdwan
West Bengal
PIN 713408
E-mail : shyamalroy81@rediffmail.com











No comments:

Post a Comment