বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Monday, January 14, 2019

পাপকাজের হলুদ নমুনা // মণিরত্ন মুখােপাধ্যায়

পাপকাজের হলুদ নমুনা  //  মণিরত্ন মুখােপাধ্যায়

অতএব ভগবান যদি আমাকে ক্ষমা করে দেন তাে সেটাই আমার কাম্য। কারণ ধীরে ধীরে অবস্থা এতটাই খারাপের দিকে যাচ্ছিল যে আমি যা চাই বা আমি যা আশা করি, সব কিছুই অভদ্র জঘন্য রূপ নিচ্ছিল। যেন আমাকে কোনও একটি শক্তি ঘূর্ণায়মান অবস্থায় কেন্দ্র থেকে দূরে, আরও দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছিল। আমার ইচ্ছা, আমার অভিজ্ঞতা, আমার উচ্চাশা থেকে আমি একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছিলাম।
আমাদের গ্রামের বাড়িতে রান্নাঘরের পিছনের দিকটাতে গাঁদা দোপাটি ফুটত, কুকুরটা চুপ করে বসে থাকত মা যদি তাকে কিছু খেতে দেয়, এই আশায় : খামারে ধান পেটাত দুটো ছেলে, তাদের মাথায় বাঁধা থাকত লাল গামছা। এসব অনতি অতীত দৃশ্য আমি জানলা দিয়ে দেখতে পেতাম চোখের সামনে, আর ভাবতাম এই যে আমার চোখের সামনে কাঠের পালিশ করা তাকে সাজিয়ে রাখা রয়েছে আমার প্রিয় বইগুলি, তাদের মতাে নিশ্চিন্ত হয় না কেন আমার জীবন! ভাবতাম, এইসব অতি সাধারণ জীবনরস কেন আমাকে উজ্জীবিত করে না বা করতে পারছেনা আজকাল! গরম বা ঠাণ্ডা অনুভূতিগুলাে কেমন করে এত ভোতা হয়ে পড়ল ? এক আশ্চর্যজনক শূন্যতা ভয়ের অনুভূতি নিয়ে সাপের মতাে আমাকে ঘিরে ধরতে আসছে।
এমন তাে হওয়ার কথা ছিল না। আমি তাে চেয়েছিলাম সামান্য একটি ঘটনা দেখতে, যেন একটা দড়ি বেয়ে আমি আমার ছােটবেলাকার অতীতের গহ্বরে নেমে চলে গেছি। সেখানে ধান ঝাড়া আছে, রান্নাঘরের বাইরে দোপাটি ফুলের গাছ আছে, আর কুকুরটা শুয়ে বসে আছে কিছু একটা খাবার লােভের বশবর্তী হয়ে।
ঠিক তিনদিন আগে আমাকে ডাক্তার বলল – সিগারেট খাওয়া ছাড়তে হবে, যেমন করেই হােক, যত কষ্টই হােক। আগে প্রাণটা বাঁচাতে হবে, তারপর ওসব নেশার জিনিস। তাই না, মিষ্টার সরকার? সিগারেটের ধোঁয়ায় মুখে গলায় ফুসফুসে ক্যান্সার হতে পারে, জানেন?
ঠিক সেইক্ষণ থেকে আজ পর্যন্ত হয়ে গেল মােট ষাট ঘন্টা, আমি একটাও সিগারেট খাইনি। শুনেছিলাম প্রথম কয়েকটা দিন খুব কষ্ট হয়, মন মেজাজ ঠিক থাকে না। কই আমার তাে তেমন কিছু কষ্ট হয়নি! মন মেজাজও ঠিক আছে। আসলে মা মরে যাওয়ার সময় যে কষ্ট আমার হয়েছিল তার তুলনায় এসব ছােটখাটো কষ্ট কিছুই নয়। কেবল অসহায়তা ভুলতে আমি জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকছিলাম, দেখছিলাম কেমন করে সূর্যাস্ত’র সময় আকাশের রঙ মুহুর্মুহু পালটে যায়। অনেকটা আমার জীবনের রঙের মতাে।
মা থাকতে একরকম ছিলাম, বিয়ে করে আর একরকম হলাম। আর এখন, এখন এই সিগারেট ছাড়ার দিনগুলােতে সম্পূর্ণ অন্যরকম। জানলা দিয়ে দেখতে দেখতে বিরতিহত মনখারাপ করা দৃশ্যগুলােকে ভুলে থাকতে চাইছিলাম। যেমন মনে করা যাক আমি আমার মেয়ে দুটোকে কেউ ছুরি দিয়ে আক্রমণ করছে। এমন একটা দৃশ্য কল্পনা উঠছিলাম। অথচআমি চাইছি এমন সব খারাপ খারাপ দৃশ্য যেন আমাকে বিব্রত কিন্তু না চাইলেও ঠিক তেমনটিই ঘটছে বা ঘটবার উদ্যোগ করছে। বিব্রত না করে। আমি যখন পাপকাজ করা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চেয়েছি, ঠিক তখনই ফেলেছি। কারণটা আর কিছুই নয়, আমি চেষ্টা করেছি (প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। বেশি করে বলা হয়ে যাবে), যেন সমাজের আর সবাই আমার এসব গােপন কথা বঝতে না পারে। তাতে আমার হৃদয়ের কতটা উন্নতি হয়েছে জানিনা, তবে আমার কসম জানাজানি হয়নি। আমি তাে জানি আমার পাপকাজ কী এবং সেটা কতদিন ধরেই তার জন্যই কি না জানি না, আমি কখনও কখনও চমকে উঠছি, ভয়ংকর সব দৃশ্য কল্পনা করছি, যেন আমার মেয়ে দুটোকে কেউ ছুরি মারতে আসছে। আর তারা প্রাণপণ দৌড়চে ‘বাবা বাবা বলতে বলতে। আমাকে তাদের বাঁচাতে হবে। আমাকে একটা নিশ্চিয়
জীবনে ফিরে যেতে হবে। | এখন সবাই, যার মধ্যে আমার স্ত্রী-ও আছেন, জানতে চাইবেন আমার পাপকাজটা কী, এবং সেটা কতদিন ধরে করছি, এবং এখনও করছি কিনা? একটা হিসেব তাে চোখের সামনে রয়েছে, সবার দৃষ্টিগােচর, সেটা আমার নেশা ছেড়ে দেওয়া। সিগারেট খাওয়া একটা পাপকাজ, নয় কি? ওতে স্বাস্থ্য নষ্ট হয়, অর্থ নষ্ট হয় এবং ভবিষ্যত নষ্ট হয়। যদি পাপকাজের ডেফিনিশন চাওয়া হয় তাহলে এইসব কথাগুলি, যেটা সিগারেট খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযােজ্য, সবগুলিই সুড়সুড় করে চলে আসবে। সুতরাং আমাকে এখন সম্বর্ধনা সহকারে মঞ্চ’র উপর ডেকে একটা মেডেল দেওয়া যেতেই পারে। তাতে অন্যরা এইসব পাপকাজ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করতে পারে। আমি কিন্তু কোনও প্রতিজ্ঞা করিনি, কারণ আমি ওসব প্রতিজ্ঞা-টতিজ্ঞা করতে একদম ভালােবাসি না। আমি হৃদয়ের বিশুদ্ধতায় বিশ্বাস করি। তাকে ধুয়েমুছে ঝকঝকে তকতকে করে রাখতে চাই, আমি ভালাে, বেশ ভালাে এবং যথেষ্ট ভালাে ধরণের মানুষ। এবং আমি, এই দেখাে না, কেমন অনায়াসে সিগারটে খাওয়া ছেড়ে দিতে পারলাম! যদিও তারপর মাত্র ষাট ঘন্টা পেরিয়েছে।
 তা বললে তাে হবে না। এই তাে আজকে সকালে ব্রেকফাষ্ট টেবিলে বসে আধপােড়া টোষ্টের ওপর দেখলাম কার যেন একটা মুখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আধপােড়া টোষ্ট আয়না নয় যে আমার নিজেরইমুখ দেখে ভাবতে পারব ওটা অন্য কারও মুখ নয়। বুঝতে চাইছিলাম, ওটা কে হতে পারে, কিন্তু ছবিটা যেমন এসেছিল তেমনি মিলিয়ে গেল। ভাবনায় পড়লাম, কে হতে পারে ওটা, আমার কোনও পাপকাজের নমুনা ? এক সেকেণ্ড ছিল ছবিটা, মাত্র এক সেকেণ্ড, তাতে করে কিছু বােঝার আগেই মিলিয়ে গেল আমার পাপের নমুনা।
ওটা ছবি হতেও পারে, না হতেও পারে, কিংবা হতে পারে একটা শান্ত সমাহিত অত্যন্ত ভদ্র মানুষ। কিংবা একটা সুন্দর কোনও জীবনশক্তি। মােটকথা বলতে দ্বিধা নেই যে আমি বেশ ভড়কে গিয়েছিলাম, অনেকক্ষণ তাকিয়েছিলাম টোষ্টের দিকে। সাশ ভাবলেন আমার হয়তাে টোষ্ট খেতে ইচ্ছে করছেনা। একবার বললেনও সেকথা। জবাব দিলাম না, কামড় বসালাম মাখনবিহীন টোষ্টে। এমন কথা ভাবার কোনোও  কারণ নেই যে টোষ্টের ওপর ভেসে ওঠকেই কামড়ে দিলাম আমি ইচ্ছাকৃতভাবে তা নয়, ওটা তাে আমার জানা কোনও মানুষের মুখ হলেও হতে পারে। এবং আমি জেনেশুনে নিজের চেনাশােনা মানুষকে কামড়াতের কোন দুঃখে? কিন্তু তাকে তাে চিনতে পারলাম না। যদি মাখন লাগাই তাে সেই মুখটা মুছে যেতে পারে টোষ্টের ওপর থেকে। সুতরাং মাখন লাগানােটা বাদ দিয়ে শুকনাে শুকনাে খেতে শুরু করে দিলাম। আমার বউ, মেয়েরা সবাই আমার কাণ্ড দেখছিল অবাক হয়ে
– জ্যাম বা মাখন কিছু একটা লাগা না কেন?
আমার বউ চিরকাল আমাকে সামলে এসেছে, আজও সামলালাে। আমি হাতে ছুরি তুলে নিলাম, মাখন তুললাম ছুরিতে করে; ঠিক তখনই যেন অনেক ভেবেচিন্তে, বলবে কী বলবেনা দোনামনা করে আমার বউ কথাটা বলে ফেলল। | - জাননা, ছােটপিসি কাল দুপুরে মারা গেছেন। দাহ-সংস্কার হয়ে গেছে। আমাদের যেতে হবে। আজকে যেতে পারলেই ভালাে হয়। আমরা সবাই মিলে যাব, আজ-ই ফিরে আসব, কাল মেয়েদের স্কুল আছে। ওদের এখানে পৌঁছতে পৌঁছতে বিকেল হয়ে যাবে, ফিরতে রাত হবে, বেশি রাতও হতে পারে। রাস্তাতেই কোথাও ডিনার করে নেব। মেয়েদের বাড়িতে রেখে যাব না। আজকাল যা সব কাণ্ড হচ্ছে!
যেন এইমাত্র কোনও কিছু ঘােষণা করা হ’ল এমন ভাবে কথাগুলাে বলা হ’লআর বলা হল আমাকেই। কেননা, মেয়েদের আমার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে থাকা দেখে পরিষ্কার বুঝলাম যে কথাটা কেবল আমাকেই বলা হয়েছে; ঘােষণাটা কেবল আমার জন্যে করা হয়েছে। মেয়েরা দেখছিল বাবার মুখে কী প্রতিক্রিয়া হয়। সেটা তাদের দেখার বস্তু ছিল এবং সেই দেখাটা তারা একমনে দেখতে চাইছিল! একটুও যেন বাদ না পড়ে যায়, এমন করে দেখছিল আমাকে, কিংবা আমার মুখের রেখাগুলােকে।
আমার ছােটপিসি আমার খুব কাছের মানুষ, ছােটবেলায় আমি তার কোলেপিঠে চড়েছি, তাঁর কাছে অঙ্ক শিখেছি, তার বিয়ের সময় পিঁড়ি ধরেছি। ছােটপিসি মারা গেছে এই কথাটা আমার মাথায় ঢুকতে সময় নিল, হয়তাে আমার মুখে দুঃখ পাওয়ার কিছু কিছু চিত্র ফুটে উঠেছিল, সেদিক পানে চেয়ে দেখছিল বাকি তিনজন। একটু পরেই আমাকে অফিস যাওয়ার জন্য বের হতে হবে। আজ খুব একটা কাজের চাপ নেই, তবু যেতে হবে। অফিস যেতে আমার ভালাে লাগে না। তা বললে তাে হবে না, ওখান থেকে যে আমাদের জীবনরস আসে। তবে আজ ইচ্ছে করলে আমি লাঞ্চের সময় অর্ধেক দিনের ছুটি নিয়ে চলে আসতে পারি। মেয়েরাও স্কুল থেকে চলে আসতে পারে এবং আমাদের চারজনের পুরাে পরিবারটা গাড়িতে চেপে মাঝেরহাট চলে যেতে পারি।
আমি আবার জানলার বাইরেটা দেখলাম, দেখলাম একটা হলুদ ভিজে ভিজে রােদুরে আটকে গেছে সকালটা। একজোড়া পাখি বাইরে দিয়ে উড়ে চলে গেল অসভ্য'র মতে, আমাকে পরােয়া না করে, ঠিক নাকের উপর দিয়ে। কেমন যেন শীত শীত লাগতে লাগল আমার। ছােটপিসি চলে গেছে, অবশ্য থেকেই বা আমার কোন কাজে লাগছিল? তৰ থাকা একরকম আর না থাকা আর একরকম। আমার হাত থেকে আধখাওয়া টোষ্টটা প্লেটের ওপর রেখে দিলাম, তখনও আমি জানালা দিয়ে দেখা বন্ধ করিনি। বড় মেয়ে আমাকে কিছু বলল বােধহয়, তারপর মাকে ধমকাল - তুমি মন খারাপ করাে না বাপি আর মা, তুমি এখনই কথাটা বলতে গেলে কেন? এখন আমাদের স্কুলে যেতে হবে, বাপিকে অফিসে যেতে হবে। এখনই তােমার ওই কথাটা তােমার বলার সময় হ’ল ?
মেয়ে বড় হয়েছে, ক্লাস ইলেভেন, এবং ঠিক কথাই বলেছে। বিকেলেও তাে কথাটা বলা যেত। তাতে অবশ্য অসুবিধে ছিল, কেন না তাহলে আজ আর মাঝেরহাট যাওয়া হত না। আমাকে শুধু বলা যেতে পারত আজ আমাকে হাফ-ডে ছুটি নিতে হবে, বিশেষ কাজ আছে। মৃত্যুর কথাটা, তার উপর ছােটপিসির মৃত্যু হয়েছে সেই কথাটা যে আমাকে কষ্ট দিতে পারে বােঝা উচিত ছিল। কিন্তু উচিত অনুচিত ভেবে কাজ করা কি অতই সােজা ? আর তার ফল যে অনেক সময়েই খারাপ হবে সেসব জানলেও জানতে চাই না। কেননা আমরা সকলেই কিছুমাত্রায় জ্ঞানপাপী।
এখন আমার চোখের সামনে সবকিছু আবছা হলদেটে লাগছে। আমি বােকা হাঁদার মতাে বড় মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। বােঝার চেষ্টা করছি ওর বক্তব্যটা ঠিক কী ছিল? কী বলতে চাইছিল অতসী, মানে আমার বড় মেয়ে, যাকে অনেক সময়ে আমি ভেবে দেখেছি, ঠিক মা'র মতাে মেয়ে নয়, অনেকটা আমার মতাে মেয়ে। ওর মনটা অনেকটা আমার মতাে। আমার ছােটপিসি মরে গেছে বলে আমাকে মনখারাপ করতে বারণ করছে, এই তাে ব্যাপার?
মেয়ে দুটো উঠে গেল, তাদের স্কুল বাস এসে যাবে সামনের বড় রাস্তায়, এবং সময় মতাে পৌঁছতে না পারলে বাস চলে যাবে। তাদের হাতে একদম সময় নেই, যত সময় আছে আমার পকেটের ভিতর। ছােটপিসির মৃত্যুর খবরটা আমার হলুদ রােদের সকালটাকে চটকে দেওয়ার পর মস্তিষ্কটাকে শূন্য করে দিলেও সেই অফুরন্ত সময়ের ঘাটতি হবে না। আমি উড়ে যাওয়া আরও একজোড়া পাখি দেখতে চাইলাম, যদি জানলার বাইরে দিয়ে উড়ে যায় ঠিক এই সময়টাতে। তা হল না, আর কোনও অসভ্য পাখির জোড়া উড়ে গেল
, তার বদলে আমার বউকে দেখলাম হলুদ নারীমূর্তি হয়ে গেছে। তাতে প্রাণ আছে কি না বােঝা যায় না। ডাইনিং টেবিল বা ঘরের অন্য আসবাবগুলাে হলুদ হয়ে গেল আমার নির্ঘাত চোখের সামনে।
আমার জগতটা হলুদ হয়ে যায় কেন এই প্রশ্নটা ঝুলছিল একটা জায়গায়, সেই জায়গাটা আমার মন হতেও পারে, আবার না হতেও পারে। ছােটপিসি আজ না হয় মরে গেছে, কিন্তু এত বছরে আমার কলকাতার বাড়িতে তিনি কতবার এসেছেন, আমার হলুদ রঙের বউ সে বৃত্তান্ত আঙুল গুনে বলে দিতে পারে। এবং তার মতাে অমন শাশুড়ি যে নেহাত সম্মানের পাত্র বলে বেশি কিছু মন্তব্য করছে না, তাও বলে দিতে ভুলল না। সে জায়গায় আমরা ওখানে কতবার গেছি তা কিন্তু আঙুলে গুনে বলা যাবে না। ছােটপিসির গ্রাম-গ্রাম বাড়িটা আমার খুব ভালাে লাগত। সেখানে যদিও খামার বাড়ি ছিল না, কিন্তু রান্নাঘরের বাইরে কুকুরটা শুয়ে আছে কি-না প্রতিবার আমি দেখতে চাইতাম। এবং রান্নাঘরের বাইরে না হলেও কোথাও না কোথাও একটাকে দেখতে পেতাম, দেখে শান্তি পেতাম। কিছুটা হলেও আমার ছােটবেলাকার গহ্বরটা দেখতে পেতাম।
অফিসে যেতে যেতে পুলকারের ভিতরে বসে ভাবছিলাম, ছােটপিসিকে নিয়ে আমার একটা কনফেশন আছে, যেটা আমার মতে পাপকাজ। অবশ্য সেটা তার মতে মােটেও তেমন কিছু পাপকাজ কিংবা খারাপ কাজ ছিল না। কেননা এইনিয়ে আমরা আলোচনা
করেছিলাম। আমার পিসি হলে কী হবে, আমার থেকে মাত্র ছয় বছরের বড় ছিল সে। অনেকটা দিদির মতাে। আর আমাদের দাদুর গ্রামের বাড়িতে আইবুড়াে বয়সে একবার আমি তাকে ন্যাংটো দেখে ফেলেছিলাম কাপড় ছাড়ার সময় : সেটা আমার মনে এত গভীর ছাপ ফেলেছিল যে আজও আমি চোখ বুজলে সেই দৃশ্যটা দেখতে পাই। এবং আমি জানি এটা আমার পাপগুলাের একটা হতেই পারে। মানুষ তাে না জেনেশুনেও কত পাপকাজ করে ফেলে। তবে এই নিয়ে আলােচনার সময় ছােটপিসি আমাকে বলেছিল, বাদ দে, বাদ দে। অমন ঘটনা এক বাড়িতে থাকলে হতেই পারে। এটা এমন কিছু ঘটনা নয় যে তােকে আমার কাছে এসে ক্ষমা চাইতে হবে। ভুলে যা।”
তাহলে দুটো পাপকাজের কথা সকাল থেকে মনে আসছে আমার। সিগারেট খাওয়া আর ছােটপিসিকে অমন অবস্থায় দেখে ফেলা। ভাবতে ভাবতে অফিস এসে গেল। অফিসের কাজকর্মর মধ্যে ডুবে যাওয়ার মতাে কাজ হাতে কিছু নেই। সুতরাং যত আজেবাজে ভাবনা ভিড় করে এল মাথায়। আমাদের অ্যাডভার্টাইজিং কোম্পানিতে আমি একজন উপরদিকের কর্মচারী। আমাকে নতুন নতুন আইডিয়া বাতলে দিতে হয় জুনিয়রদের। তারা সেগুলােকে রূপ দিয়ে ক্লায়েন্টের সামনে পেশ করে। তারপর তার থেকে বাছাই করে সেটা পছন্দ হলে সেটাকে পাঠানাে হয় টিভি, খবরের কাগজ বা ম্যাগাজিনে।।
দিন তিনেক হ’ল, মানে যেদিন আমাকে ডাক্তার সিগারেট খাওয়ার বিপক্ষে লেকচার দিল, সেদিন থেকে আমার হাতে কোনও কাজ নেই। আসলে আমার মতাে অফিসাররা নিজেই নিজের কাজ তৈরি করে নেয়, আইডিয়া তৈরি হতে থাকে মাথার ভিতর। সেইসব আইডিয়া থেকে জুনিয়াররা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, ছবি আঁকে, অ্যানিমেশন তৈরি করে রাখে। হয়তাে সিগারেট ছেড়ে আমার কাজে ঢিলেমি এসে গেছে। আমি ব্যস্ত না হলে কী হবে, এইসব প্রাইভেট কোম্পানিতে সবসময় দেখাতে হয় আমি কত কাজ করছি। অতএব আমি ব্যস্ততা দেখানাের ভান করে চললাম যতক্ষণ না চা এল। চা খাওয়ার সময়টাতে আমি যতকিছু অন্যায় করেছি সব ভাবলাম। তারপর ফোন তুলে আমার জি.এম.-কে বললাম, আজ আমি হাফ-ডে ছুটি করব। শুনে তিনি কিছু বললেন না।
এই জি. এম. লােকটিকে আমি একদম পছন্দ করি না। সে তাে অনেক লােককেই আমি পছন্দ করি না। কিন্তু সবজায়গাতেই অমন দু-চারটে অপছন্দ’র লােক জুটে যায়, এবং তাদের নিয়ে চলতেও হয়। আমিও ওকে নিয়েই চলছিলাম, ভাবছিলাম লোেকটা মরেও
। সেই কেরালা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে, নড়বার নাম নেই। তাের যদি এতই এলেম তাে যা না বাবা মুম্বাই কিংবা দিল্লী। আমাদের এই কোলকাতায় এসে বসগিরি ফলাতে তােকে কে মাথার দিব্যি দিয়েছে?
এই যে আমার এতগুলাে অপছন্দ’র লােকদের মধ্যে আমি একমাত্র সত্যানন্দম-এর মৃত্যু চেয়েছি সেটা আমার তিন নম্বর পাপকাজ। কারও মৃত্যু চাওয়া কি ভালাে? অথচ আমি চেয়েছি। আজকেও চাইছি, কারণ সে একটু খোঁজ করে দেখেছে যে আজ একজন ক্লায়েন্টের আসার কথা এবং আমি যাতে ছুটি নিতে না পারি তার জন্য সে ইন্টারকম ফোন করে সে-কথা আমাক বলে, আমাকে অবশ্যই থাকতে হবে সেখানে। তার মানে আমি যে ছােটপিসির বাড়িতে বিকেলের দিকে একবার যাব ভেবেছিলাম, সেটা বন্ধ হয়ে গেল।
জি.এম.-কে বললাম -ইউ মে লাইক ইট অর নট, আই হ্যাভ টু গাে, বিকল ইন মাই ফ্যামিলি ডায়েড। তােমার শ্বশুর মরেছিল তুমি একমাসের ছুটি নিয়ে আচমকা। আমাকে তখন তােমার কাজটাও চালাতে হয়েছিল, মনে পড়ে?
আমার মুখের ভিতরটা তেতাে হয়ে গেল। টেলিফোন ছেড়ে দেওয়ার পরেও কয়েক রিং করে আমাকে বকতে চাইল সে, প্রমাণ করতে চাইল যে দুটো এক জিনিস নয়। কিন্তু আমি ওকে চান্স দিলাম না, বলে দিলাম - ডােন্ট ডিস্টার্ব মি। আমার মন ভালাে নেই, তােমাকে এখুনি একটা চড় মেরে বসতে পারি। আমাকে ঘাঁটিও না।
বেশি দেরি না করে একটা দরখাস্ত লিখে একজনকে বললাম সেটা জি. এম.-এর টেবিলে লাঞ্চের পর পৌঁছে দিতে, মানে আমি বেরিয়ে যাওয়ার পরে যেন সেটা পৌঁছে যায়। আমার যাওয়ার পথে লােকটা যেন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। ভাবলাম এখন বাড়ি ফেরার সময় একটা ট্যাক্সি নিয়ে নেব। একে সিগারেট ছেড়ে দিয়ে শরীরের অবস্থা ভালাে নয়, তার উপর ছােটপিসি মরে গিয়ে মনের অবস্থাও তথৈবচ। সুতরাং, আজ আমি কেবল আমার পাপকাজগুলােই দেখতে পাচ্ছি।
একটু আগে আমি সত্যানন্দমকে চড় মারার কথা বলেছি। সেটাও তাে পাপকাজ হল, হল না? সত্যানন্দম অবশ্য এই অপমান সহজে মেনে নেবে না। আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। পারবে না,কারণ এটা হ’ল কোলকাতা, এবং সে কেরালা থেকে এসে যতই আমার অপছন্দ’র লােক হয়ে যাক না কেন, মাঝখানে আমি থাকায় আজ পর্যন্ত কারও ক্ষতি করতে পারেনি। আমাদের কোম্পানি এই লােকটাকে কেন যে বসিয়েছে বুঝতে পারি না। ওর এমন কিছু এলেম নেই যে আমাদের কাজের জগতে বিরাট কিছু অবদান রাখতে পারবে। ওর কাজই হল আমাদের যারা ক্লায়েন্ট, তাদের কাছে হেঁ হেঁ করা, চাটুকারিতা করা। সেটা আমি আবার জুত করে করতে পারি না। বিজনেসের দিকটাও দেখে, কাজ তুলে দেওয়ার দিকটা আমি দেখি। অথচ, আমাকে রিপাের্ট করতে হয় ওকে। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।
মােট কথা মৃত ছােটপিসির মাঝেরহাটের বাড়ি যাওয়ার সময় গাড়িটা আমি চালালাম না বা চালাতে চাইলাম না, বউকে বললাম চালাতে। আমি অন্যমনস্ক, কেবল আজকের দিনটাই নয়, বিগত কয়েকটা দিন থেকে। আমার চোখে অনেকেই এখন হলুদবর্ণ ধারণ। করেছে যখন তখন। আমার বড়মেয়ে মার পাশে বসেছে, মা'র গাড়ি চালানাে পরিচালনা করছে। আর আমি পিছনের সিটে চোখ বুজে ভাবতে ভাবতে চলেছি পাপের রঙ কিহলুদ হয়ে থাকে? আমার ছােটমেয়ে মাধবী আমাকে ছুঁয়ে আছে। কেন, তা সেই বল°ে পারবে। ওটা একরকমের সহমর্মিতা দেখানাে। হয়তাে বড়মেয়ে বােনকে সেইরকমই নির্দেশ দিয়ে রেখেছে। বাবার মনখারাপ সেকথা ওরা বুঝেছে। ছােটপিসির সঙ্গে আমায় সখ্য’র হিসেব ওরা জানে, আর জানে বলেই এ-ও জানে যে এই সময়টা বাপি খুব কষ্ট মধ্যে আছে।
 ছােটপিসির দেহটা, যাকে ছােটবেলায় আমি একবার ন্যাংটো দেখে ফেলেছিলাম, পুড়িয়ে দিয়ে এসে এখন তার মেজছেলে একটা নতুন ধুতি পরে একটা আসনের উপর চুপ করে বসে আছে। ধুতিটার রঙ হলুদ, কম্বলের আসনের রঙ হলুদ। আমি তাে এম
রঙ-ই দেখছি। বড়ছেলে মেয়ে এখনও এসে পৌছয়নি। তারা এলে তরে রঙও হলুদ হবে, আমি নিশ্চিতভাবে জনি আমাকে ওরা রিপাের্ট দিছিল, কত কিছুর হয়েছে, বাঁচাবার জন্য কতকের চেষ্টা হয়েছে। আমি ততক্ষণ চারদিকটা দে? চেষ্টা করছিলাম আর কিছু হলুদ ৰে' কি না! দেখলাম না, বরং মেজছেলেট' ? তার আসনের হলুদভাব চলে গেল, যেমন এসেছিল তেমন-ই চলেও গেল। এখন আমার সামনে সবাই পরিষ্কার সাদা সাদা মানে টোর যেমন রঙ হওয়া উচিত তেমন-ই। মেজছেলের ধুতিটাকে ভালাে করে দেখলাম, পরিষ্কার সাদা দেখতে পেলাম। তখনই মনে পড়ল রান্নাঘরের বাইরে আছে কি-না একবার দেখা দরকার। কিন্তু এখন সেখানে যাওয়া ঠিক হবে কি-না বুঝতে পারছিলাম না।
মাধবীকে বললাম – আমার সঙ্গে আয় তাে শুনিয়া।
আমি আদর করে ডাকলে ওকে নি’ বলি, না হলে ‘ই’বলে ডাকি। দুই বােনের মধ্যে চোখে চোখে কী কথা হল কে জানে, ই-এর সেলে বড়মেয়ে 'সই' এল আমার সঙ্গে। তা হােক, সই-ই-এর মধ্যেই অনেক নির্ভরযোগ্য। বাপ-সােহাগী বড়মেয়ে
তাে!
- কোথায় যাবে বাপি? - একটু বাইরে যাব, তা আমার সঙ্গে।
এদের রান্নাঘরের বাইরে গান বা দোপাটি গাছ নেই,কুর বসে থাকার জায়গা নেই। সুতরাং আমার সামনের দিকের জায়গাটাতে গেলাম, গেট পর্যন্ত গিয়ে একটু দাঁড়ালাম, কোথাও কিছু নেই। খানিকটা দাড়িয়ে ফিরে আসার সময় দেখলাম একটা হলুদ কুকুর, অসভ্য’র মতাে উলঙ্গ, চলে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে, ল্যাং ল্যাং করতে করতে। আর যেহেতু ওটা উলঙ্গ এবং হলুদ, ওটাই আমার দেখতে আসা রান্নাঘরের বাইরে বসে থাকা সেই কুকুর। এখন কেবল জগিং-এর চালে চলে যাচ্ছে। তা হতেই পারে, সময়টাতাে কম দিন হ’ল না, ওটুকু পরিবর্তন হতেই পারে। আমি সন্তুষ্ট মনে ফিরে আসছিলাম।
সই বলল – তুমি কুকুরটার দিকে অত কী দেখছিলে বাপি?
– ইটারনাল লাভ দেখলাম সই : ওরা আমাকে ভালােবাসে, আমাকে গাইড করে এবং পাপকাজ থেকে বাঁচায়। আমার ছােটপিসি যেমন করত।
সতেরাে বছরের মেয়ে আমাকে অবিশ্বাস করল না, তবে একবার গভীর দৃষ্টিতে তাকাল, কিছু বুঝতে চেষ্টা সুল। ধরে ধরে বাথরুমে নিয়ে এল, বেসিনের কল খুলে একট জল দিয়ে আমার মুখে চোখে ঘাড়ে দিল, তােয়ালে দিয়ে মুছিয়ে দিল।
বলল – বেশি চিন্তা কোরাে না বাপি,তুমি বড় বেশি চিন্তা করাে। সময়ে সব আবার ঠিক হয়ে যাবে, চলাে। একটু চা খাবে? | কত মমতাময়ী হয় এইসব মেয়েরা, ওর মধ্যে আমার ছােটপিসিকে দেখলাম। আমার সই ছিল সেই একজনই, আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আরও বেশি করে তাকেই খুজতে চাইলাম।
রঙ-ই দেখছি। বড়ছেলে আর বড়মেয়ে এখনও এসে পৌঁছয়নি। তারা এলে তাদের রঙও হলুদ হবে, আমি নিশ্চিতভাবে জানি আমাকে ওরা রিপাের্ট দিচ্ছিল, কত কিছু কর হয়েছে, বাঁচাবার জন্য কত রকমের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি ততক্ষণ চারদিকটা দেখার চেষ্টা করছিলাম আর কিছু হলুদ দেখা যায় কি না। দেখলাম না, বরং মেজছেলেটা তার তার আসনের হলুদভাব চলে গেল, যেমন এসেছিল তেমন-ই চলেও গেল। এখন আমার সামনে সবাই পরিষ্কার সাদা সাদা মানে যেটার যেমন রঙ হওয়া উচিত তেমন-ই। মেজছেলের ধুতিটাকে ভালাে করে দেখলাম, পরিষ্কার সাদা দেখতে পেলাম। তখন-ই মনে পড়ল রান্নাঘরের বাইরে কুকুর আছে কি-না একবার দেখা দরকার। কিন্তু এখন সেখানে যাওয়া ঠিক হবে কি-না বুঝতে পারছিলাম না।
মাধবীকে বললাম – আমার সঙ্গে আয় তাে মুনিয়া।
আমি আদর করে ডাকলে ওকে মুনিয়া’ বলি, না হলে ‘মুই’বলে ডাকি। দুই বােনের মধ্যে চোখে চোখে কী কথা হ’ল কে জানে, মুই-এর বদলে বড়মেয়ে ‘সই’ এল আমার সঙ্গে। তা হােক, সই-মুই-এর মধ্যে সই অনেক নির্ভরযােগ্য। বাপ-সােহাগী বড়মেয়ে তাে!
- কোথায় যাবে বাপি? - একটু বাইরে যাব, আয় আমার সঙ্গে।
এদের রান্নাঘরের বাইরে গ্যাদা বা দোপাটি গাছ নেই, কুকুর বসে থাকার জায়গা নেই। সুতরাং আমার সামনের দিকের জায়গাটাতে গেলাম, গেট পর্যন্ত গিয়ে একটু দাঁড়ালাম, কোথাও কিছু নেই। খানিকটা দাঁড়িয়ে ফিরে আসার সময় দেখলাম একটা হলুদ কুকুর, অসভ্য'র মতাে উলঙ্গ, চলে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে, ল্যাং ল্যাং করতে করতে। আর যেহেতু ওটা উলঙ্গ এবং হলুদ, ওটাই আমার দেখতে আসা রান্নাঘরের বাইরে বসে থাকা সেই কুকুর। এখন কেবল জগিং-এর চালে চলে যাচ্ছে। তা হতেই পারে, সময়টাতাে কম দিন হ’ল না, ওটুকু পরিবর্তন হতেই পারে। আমি সন্তুষ্ট মনে ফিরে আসছিলাম।
সই বলল – তুমি কুকুরটার দিকে অত কী দেখছিলে বাপি?
–ইটারনাল লাভ দেখলাম সই। ওরা আমাকে ভালােবাসে, আমাকে গাইড করে এবং পাপকাজ থেকে বাঁচায়। আমার ছোেটপিসি যেমন করত।
সতেরাে বছরের মেয়ে আমাকে অবিশ্বাস করল না, তবে একবার গভীর দৃষ্টিতে তাকাল, কিছু বুঝতে চেষ্টা করল। ধরে ধরে বাথরুমে নিয়ে এল, বেসিনের কল খুলে একটু জল দিয়ে আমার মুখে চোখে ঘাড়ে দিল, তােয়ালে দিয়ে মুছিয়ে দিল।
বলল – বেশি চিন্তা কোরাে না বাপি, তুমি বড্ড বেশি চিন্তা করাে। সময়ে সব আবার ঠিক হয়ে যাবে, চলাে। একটু চা খাবে? কত মমতাময়ী হয় এইসব মেয়েরা, ওর মধ্যে আমার ছােটপিসিকে দেখলাম। আমার সই ছিল সেই একজনই, আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আরও বেশি করে তাকেই খুঁজতে চাইলাম।


বাক্প্রতিমা সাহিত্য পত্রিকা থেকে সংগৃহীত 

No comments:

Post a Comment