বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Friday, January 11, 2019

ছোটোদের আবৃত্তি - স্বপন নন্দী

web patrika

প্রাক কথন

আবৃত্তির সঙ্গে আমার সম্পর্ক-সেতু রচিত হয় প্রথম কৈশােরের চনমনে দিনগুলিতে। তারপর প্রতিযােগিতা মঞ্চে | পুরস্কার এবং তিরস্কার, নিন্দিত এবংনন্দিত, জয় এবং পরাজয় সবকিছুমিলিয়ে সেই আরক্তিম কিশােরবেলায় একটি কবিতার মন্ত্রমুগ্ধ অক্ষরগুলি স্মৃতি থেকে উচ্চারণ করতে পারলে গর্বিত হতাম। যৌবনের দিনগুলিতে সংস্কৃতির প্রতি মুগ্ধতা এবং সংস্কৃতির শিল্পিত এবং সামাজিক দায়কে অনিবার্য মনে করে কবিতাকে আরাে মর্মে পেয়েছি। কবিতা সৃজন এবং আবৃত্তি দুই শিল্পই আমাকে সম্পূর্ণভাবে টানে।
আবৃত্তিকে ভালােবাসার এই স্রোতের অভিমুখে১৯৮৯ থেকে। আমার সম্পাদিত শম্পা সাহিত্য পত্রিকার পক্ষ থেকে সারা বাংলা আবৃত্তি উৎসবের আয়ােজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ কনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত্রে আবৃত্তিশিল্পীগণ। প্রায় তিরিশ বছর ধরে হাতেনাতে কাজ করতে গিয়ে এই বাচনিক শিল্প সম্পর্কে একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আবৃত্তির নিবিড় পাঠ’ সেই ভাবনা থেকে প্রকাশিত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে নিঃশেষিত হয়। পরবর্তী সংস্করণের কাজ চলছে। আবৃত্তির নিবিড় পাঠ'- এ শিশু ও কিশােরদের কবিতা সামান্যটুকুই ছিলাে অথচ এরকম একটা অভাব বােধ করছিলাম। তাই প্রকাশ পেলাে ‘ছােটদের আবৃত্তি'। প্রকান শিল্পে এজাতীয় একাধিক বই আছে। আবৃত্তি শিক্ষার্থী, শিল্পী ও কবিতার মনস্ক পাঠক এই গ্রন্থের অন্যরকম একটা মাত্রা খুজে পানে।
গ্রন্থের পর্ব/১ পর্যায়ে যে বিস্তৃত আলােচনা রয়েছে তার জন্যে পূর্বকৃত অনেক তথ্যের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রয়াত যেসব কবিদের কবিতা এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদের উজ্জ্বল স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা। যে সব কবিতা কবিদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছি, কিংবা বিভিন্ন সংকলন থেকে গৃহীত হয়েছে সেই কবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। যথার্থ পাঠকই এই গ্রন্থের প্রকৃত সমালােচক।

আবৃত্তি শিল্পের উৎস

প্রথম কবিতার জন্ম বােধহয় বাল্মীকির কণ্ঠ থেকে। শরাহত ক্রোঞ্চের জন্য ক্রোঞ্চির শােকাৰ্তি অনুভববেদ্য হয়েছিল আদিকবির হৃদয়ে। সেই হৃদয় তখনই জেগে উঠেছিল অনবদ্য বেদনাভাষ জ্ঞাপনে। সেই প্রথম শ্লোকঃ
“মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমা।
যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদ একমধীঃ কামমােহিতম্।”
কবিতা ও কবিতার প্রয়ােগশিল্প আবৃত্তির উৎস ঋকবেদে এবং অন্যান্য বৈদিক সাহিতে। ঋকবেদ যখন রচিত হয়, তখন লিখন পদ্ধতি আমাদের অজ্ঞাত ছিল। তাই বৈদিক ঋষিরা কবিতা রচনা করতেন মুখে মুখে এবং সেগুলিকে স্মৃতিতে ধরে রাখতেন। ঋকবেদের সুক্তগুলি পাঠ করা হতাে ছন্দোবদ্ধ প্রয়াসে। গুরুশিষ্য পরম্পরা কিংবা লােকপরম্পরা শ্রুতিগ্রাহ্য এবং স্মৃতিবাহিত শিল্প হিসেবে বেদের কবিতা সর্বজনীন রসাবেদন লাভ করেছিল। লিখন প্রকরণ চালু হবার পরেও ঋকবেদের কবিতা লিপিবদ্ধ হয়নি। লিখিত কবিতার চেয়ে স্মৃতিবাহিত কবিতার মূল্য সে সময় অধিক গ্রহণীয় ছিল। কারণ স্মৃতিগ্রাহ্য আবৃত্তির মধ্যে কবিতার ভাব তাে প্রকাশিত হতােই এবং তার সঙ্গে কণ্ঠস্বর, প্রকাশভঙ্গি এবং পাঠকের বা আবৃত্তিকারের অভিব্যক্তিও উন্মােচিত হতাে। বেদের কবিতা-আবৃত্তির নানা শৈলী ছিল। সেইসব শৈলীর নাম পাঠ বা পদপাঠ। এছাড়া ছিল ক্রমপাঠ, জটাপাঠ ইত্যাদি শৈলী। সুতরাং বেদই আমাদের শিখিয়েছে আবৃত্তির প্রথম পাঠ।
 পালিভাষায় লেখা বৌদ্ধ স্তোত্রগুলির পাঠে প্রাচীন আবৃত্তি শিল্পের চর্চার দিকটি সপ্রতিভ হয়। প্রাচীন আর্য সমাজের রাজসভার কবিরা আবৃত্তির মাধ্যমে নান্দী, মঙ্গলাচরণ প্রভৃতি আনুষ্ঠানিক কাজকর্মগুলি করে রাজসভার সূচনা করতেন। আবৃত্তি ছিল রাজসভার কবিদের মুখ্য জীবিকা।
গ্রীক নাট্য সাহিত্যের প্রথম যুগে সােফোক্লেস, ইউরিপিদিস, ইসকাইলাস প্রমুখের নাটকে কোরাস চরিত্র সমবেত কণ্ঠে সংলাপ উচ্চারণ করত এবং গাইত। তাদের সে ভূমিকা ছিল পদ্য বন্ধে এবং অনুশীলন সাপেক্ষ শৃঙ্খলা নিষ্ঠায়। আবৃত্তির আত্মপ্রকাশ-সুত্র সেখান থেকেও
মেলে।  আবৃত্তির উৎস আমাদের লৌকিক জীবনচর্যা থেকেও। শ্রমজীবী মানুষেরা রােদে পুড়ে, জলে ভিজে, অন্ধকার খনি গহ্বরে জ্বলন্ত লােহার সামনে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। তাদের জীবনে কিন্তু একটা ছন্দ থাকে। তাই কুঠার চালাতে চালাতে এক কাঠুরিয়ার কণ্ঠ থেকে আপনা হতে যে শব্দ ‘ধুয়া’ বা ‘বােল’ হয়ে বেরিয়ে আসে তা তাদের কাজের প্রেরণা। কর্ম তখন কৃষ্টি হয়; আর কৃষ্টির প্রতিশব্দ সংস্কৃতি। এই ভাবেই শ্রমসংগীত। এই শ্রমসংগীতের নবায়মান ধারা হলাে লােকসংগীত। ভাদুটুসুর মতাে এমন অনেক আদিবাসী উপজাতির প্রাণের সংগীত একদিন কথার আলিঙ্গনে আবৃত্তি হয়ে গেছে।
 প্রাচীন সাহিত্যের প্রথম কাব্য নিদর্শন চর্যাপদের জীবনরস, ছন্দ, অলংকার ইত্যাদিতে অপূর্ব কাব্যমূল্য উপলব্ধ হয়। যদিও সন্ধ্যাভাষার অবগুণ্ঠন এই পদগুলির ওপর চাপিয়ে দেওয়া
হয়েছে, তবুও চর্যার কবিতায় সাংগীতিক সুর স্বাভাবিক ছন্দে অনুরণিত হয়। এই সাধনসংগীত বৌদ্ধ সাধকের কণ্ঠে আন্তরিক হয়ে ওঠে আবৃত্তিযােগ্যতায়।
“ভবণই গহন গম্ভীর বেঁগে বাহী।
দু অন্তে চিখিল মাঝে ন বাহী।
ধামাৰ্থে চাটিল সঙ্কম গঢুই।।
পারগামিলােহ নিভর তরই৷৷”
সংস্কৃত ভাষায় লেখা জয়দেবের গীতগােবিন্দ’ একটি সার্থক গীতিকবিতা যার ছন্দোময় কাব্যপংক্তিগুলি রসিকের কণ্ঠে আবৃত্তির যােগ্য হয়ে ওঠে যেখানে জয়দেব সংস্কৃত ভাষায় নিগুঢ় জটিল সমাসবদ্ধতা ভেঙে কোমলতায় বলতে পারেনঃ
“ত্বমসি মম ভূষণং : ত্বমসি মম জীবনং
ত্বমসি মম ভবজলাধিরত্নম।”
বাংলা আবৃত্তির ঐতিহ্য খোঁজা যায় বৈষ্ণব পদাবলীতে বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গােবিন্দদাসের কাব্য কবিতা বাগীশ্বরী বােধ থেকে উৎসারিত অনিবৰ্চনীয় পংক্তিমালায় ব্যঞ্জিত হয়েছে শ্রীমতী রাধার রাগ-অনুরাগ। বিদ্যাপতি বলেনঃ
“এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। এ ভরা বাদর
মাহ ভাদর | শুন্য মন্দির মাের।” কিংবা চণ্ডীদাসের কলম :
‘সই কেবা শুনাইল শ্যামনাম | প্রাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গাে
আকুল করিল মাের প্রাণ।” পংক্তিগুলি প্রয়ােগশিল্পের মাধ্যমে কবিকে, আবৃত্তিকারকে এবং পাঠক বা শ্রোতাদের স্ব স্ব মাত্রায় চিহ্নিত করে দেয়। সমান মাত্রা থেকে আবৃত্তিযােগ্যতা অর্জন করে নেয় শাক্তগীতিকা।
 লােকসাহিত্য থেকে আবৃত্তির নানা সূত্র অন্বেষণ করা যায়। ঠাকুরদা-ঠাকুরমা-রা যখন গল্প বলতেন- সেই বলার মধ্যে তাদের বাচন ভঙ্গিটি লক্ষণীয় বিষয় ছিল। লােক সাহিত্যে লৌকিক ছড়ার ভূমিকাটি উল্লেখের দাবি রাখে। এমনই এক ছড়া আবৃত্তির দলবৃত্ত ছন্দে আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায় ?
“ বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।
শিব ঠাকুরের বিয়ে হবে তিন কনন্য দান। এক কন্যে রাঁধেন বাড়েন এক কনন্য খান।
এক কন্যে গোসা করে বাপের বাড়ি যান।” অর্থাৎ প্রবহমান বাংলা রূপকথার লৌকিক ধারার মধ্যেও আবৃত্তি শিল্পের জন্ম হয়েছে।

আবৃত্তির সংজ্ঞা ও স্বরূপ

আবৃত্তি শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ আ + বৃৎ+ ক্তিণ সম্যকরূপে এবং সর্বপ্রকারে কোন কিছুর ভাবার্থকে প্রস্ফুটিত এবং সঞ্চারিত করাকে আবৃত্তি বলে। সংস্কৃত সাহিত্যে
আবৃত্তি’-র সংজ্ঞায় বলা হয়েছেঃ পুনঃ পুনরথা সন্ধানং আবৃত্তিঃ। এর অর্থ হল পুনঃ পুনঃ কোন শব্দ উচ্চারণ করে তার অর্থ অনুসন্ধান করার নাম হল আবৃত্তি'। আবৃত্তির সংজ্ঞায়নে বা স্বরূপায়নে আরও বলা হয়েছে এক শব্দঃ সুপ্রযুক্তঃ স্বর্গে লােকে কামধুগ ভবতি। একটি শব্দের যথােচিত প্রয়ােগ হলে এবং সম্যক জাত হলে, সেই শব্দটির স্বর্গপ্রাপ্তি হয় অর্থাৎ উত্তরণ হয়। এই জন্যই শব্দকে ব্রহ্ম’ বলা হয়। সঠিক শব্দ উচ্চারণে বাচিকের ব্রহ্মজ্ঞান হয়। I.M.W Hunter তার 'Memory' রচনায় লিখেছেনঃ "It is a habit of the vocal machinery learned through repeated trials (re hearsals) according to the laws ofhabit formation".এর মূল অর্থ হল বারবার অনুশীলনের দ্বারা লব্ধ বাগযন্ত্রের একটি অভ্যাসের নাম আবৃত্তি’। আবৃত্তির ইংরাজী পরিভাষা 'Recitation' শব্দটি মধ্যযুগীয় সাহিত্যে প্রচলিত ছিল। ফার্সী ‘রি সাইতের’-এর অর্থ স্মৃতির থেকে কিছু বলা। আবার ইতালিতে রিসাইতেতিতাে’-র অর্থ স্মৃতিনির্ভর পাঠ।
রাজ্যেশ্বর মিত্র তার আবৃত্তি প্রবন্ধে আবৃত্তির সংজ্ঞা বা প্রকৃতি বা স্বরূপ বিষয়ে বলেন ঃ
“বহু প্রাচীনকালে আর্যযুগে চৌষট্টি কলার মধ্যে দুটি কলার কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে, একটি সংপাঠ্য’ অপরটি মানসী কাব্যক্রিয়া। সংপাঠ্য’ শব্দের অর্থ এমন বিষয় যা সম্যগভাবে পাঠ করবার উপযুক্ত। এর সােজাসুজি মানে করলে বর্তমান আবৃত্তি বা Recitation বােঝায়।”
রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন “আবৃত্তি আর কিছুনয়, আমি মনে করি, অন্তরের গভীরতম অনুভূতির ছন্দসংগীত। এই সংগীত ছন্দের দোলায় চলে, এই ছন্দ পরে এসে ছবি হয়, কবি তখন চিত্রকর। একইভাবে তিনি হচ্ছেন সংগীত প্রবক্তা, তিনিই নর্তক। মূল উৎস কিন্তু ঐ এক আবৃত্তি।” .....“আবৃত্তির আর এক নাম ধ্যান'। নির্জন অনুধ্যানের মধ্যে দিয়েই আবৃত্তির পূর্ণতার পথ তৈরী করতে হবে। আসল কথা, তর্ক নয়, বাদানুবাদ নয়, যাকে পেতে হবে তার জন্য ব্রত নিতে হবে। তবেই সে ধরা দেবে।”
. (শিল্পে শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা ও আবৃত্তি) সুতরাং আবৃত্তি করা একটি মহৎ কর্ম। আবৃত্তি শিল্প সর্বোত্তম শিল্প। সকল শাস্ত্রেই আবৃত্তিমমার্থ গ্রহণশক্তির উর্ধে।

কবিতার শরী

একটি কবিতার শরীরে থাকে অক্ষর, বর্ণ, শব্দ। এসবই দৃশ্যগ্রাহ্য। শব্দ থেকে ধ্বনির তরঙ্গে ছন্দের প্রকাশ। তারপরও থাকে অলংকার বিন্যাস। মৃন্ময়ী কবিতা বাগীশ্বরীতে উত্তীর্ণ হয়। এই আয়ােজন না থাকলে কবিতার কায়া নির্মাণ হয় না। কায়া কান্তি থাকলেই কবিতা শিল্পিত হয়। তাই কবিতার শারীরিক উপকরণগুলি আলােচনা বিষয় হয়ে ওঠে। কবিতাকে যিনি মূর্ত করে তােলেন তার কণ্ঠের শৈলীতে সেই আরতি
কবিতা চর্চার একান্ত অনুষঙ্গ এই উপকরণগুলি।
অক্ষর
একটি শব্দের যতটুকু ধ্বনি এক ঝেকে উচ্চারণ করা সম্ভব, তাই হল অক্ষর। যেমন-প্রশান্ত একটি শব্দ। এটি উচ্চারণ করতে হয় প্রশান-ত- তিনবারে বা তিন ঝোঁকে। সুতরাং প্রশান্ত’ শব্দে তিনটি অক্ষর আছে ব্যাকরণের নিয়মে।
অন্ত্যস্থিত ধ্বনির বিচারে অক্ষরের দুটি প্রকার ভেদ - স্বরান্ত ও ব্যঞ্জনা। যে অক্ষরের অন্ত্যে স্বরধ্বনি থাকে বা যা একক স্বরধ্বনি তাকে স্বরান্ত অক্ষর বলে। যেমন গুণী শব্দে দুটি অক্ষর গু’ ও ‘ণী। গু’ এর শেষে ‘উ' স্বরধ্বনি এবং ‘ণী’-এর শেষে ই’ স্বরধ্বনি আছে। সুতরাং ‘গু’ও ‘ণী’অক্ষর দুটি স্বরান্ত
স্বরান্ত অক্ষরেরও দুটি বিভাজন-হ্রস্ব বা মৌলিকস্বরান্তও যৌগিকস্বরান্ত। অক্ষর শেষে যখন হ্রস্ব বা মৌলিক স্বর থাকে অথবা একক হ্রস্ব মৌলিক স্বর তখন মােলক স্বরান্ত হয়। যেমন তুমি’ একটি শব্দ। এতে অক্ষর আছে দুটি তু’ও ‘মি’, তার মধ্যে
উ’ এবং ম’-এর শেষে ই’ মৌলিক স্বর।
মরের
| যে অক্ষর এক যৌগক স্বর সেই অক্ষরকে
এ), (ই)ক(অ)-এ যৌগিক স্বরান্ত
যৌগিক স্বরান্ত অক্ষর বলে। যেমন-সৈনিক’ শব্দে সৈ(ঐ),ন(ই)ক(অ)
সৈ।।
যে অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকে তাকে ব্যঞ্জনা] অক্ষর বুলে শব্দে দুর(র), গম্ (ন-এর রও মিলে দুটি ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর।

ধ্বনি 

মানুষের কন্ঠ থেকে স্বেচ্ছায় নিঃসৃত স্বর বায়ুস্তরে যখন শােনা যায় তাকে ধ্বনি বলে। স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ মিলে বর্ণমালার এই উচ্চারণ প্রতীক হল দৃষ্টি গ্রাহ্য নয়, শ্রুতিগ্রাহ্য। স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের মতাে স্বাধনি ও ব্যঞ্জন ধানি তাদের নিজস্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাংলা ভাষার উচ্চারণে মহিমাখিত ভূমিকা পালন করে। বর্ণ নিয়ে যেমন কবির কারবার, আবৃত্তিকারের কারণার ফানি নিয়ে। উচ্চারণের ধানিসৌম্যতা আবৃওিকারের মূলধন।

শব্দ

একাধিক বর্ণ যথােচিত ভাবে যােগ করে যে অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ সৃষ্টি হয়, তার নাম শব্দ। যেমন কম' শব্দটি এসেছে ‘ক’, ‘ল’ও ‘ম’এই তিনটি বর্ণের অর্থপূর্ণ সংযােগে। আবৃওির জন্য বেছে নেবেন আবৃত্তি শিল্পী যে কবিতাটি সেই কবিতাটি আসলে কয়েকটি শব্দের শ্রুতিমধুর এবং দৃষ্টিনন্দন মণিহার। আবৃত্তিশিল্পীর কবিতায় এই শব্দের ঐশ্বর্য, মাধুর্য ও উচ্চারণ শৈলী পরিস্ফুট হয়। যেকোন শব্দকে আবৃণ্ডিকারের কণ্ঠ ব্যঞ্জনার মাত্রায় উত্তরণ ঘটাতে পারেন। কবির শৈল্পিক প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করে শব্দের গরিমা।

শব্দের শ্রেণীবিভাজন

গঠন ও অর্থ অনুযায়ী শব্দের বিভাজন করা যায়। গঠন অনুযায়ী শব্দের দুটি প্রধান ভাগ হল-১) মৌলিক বা স্বয়ংসিদ্ধশব্দ এবং ২) সাধিত শব্দ। যে শব্দকে কোনােভাবেই ভাঙা যায় না এবং ভাঙলে কোনাে অর্থ হবে না তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন-মা, বাবা, স্বামী, স্ত্রী, বাঘ, ভালুক ইত্যাদি।
যে শব্দের শেষে কোনাে সমাস প্রত্যয় বা স্বরান্তর ঘটিয়ে নতুন শব্দ তৈরী করা হয়, তাকে সাধিত শব্দ বলে। যেমন জলীয়' শব্দটি ‘জল’ শব্দের সঙ্গে যােগ করে গঠিত হয়েছে। আবার নীলকণ্ঠ' শব্দটির নীল' একটি মৌলিক শব্দ এবং কণ্ঠ'ও একটি মৌলিক শব্দ। 
....  চলবে 

No comments:

Post a Comment