বাংলা ভাষার ই-ম্যাগাজিন । যে কোনো সময় লেখা পাঠানো যায় । ই-মেলে লেখা পাঠাতে হয় ।

Wednesday, October 31, 2018

বন্ধুত্ব - রণেশ রায়

পিন্টু,  আছিস!
খুব যেন চেনা চেনা বুলি
কে যেন দরজায় টোকা মারে
উঠে গিয়ে দরজা খুলি,
খুকু এসেছিস, আয় বোস।













খুকু এসে বসে ঘরে
আমার মুখে কথার ফোয়ারা-----
অনেকদিন নেই তোর খোঁজ!
খোঁজ থাকবেই বা কি করে,
তুই ছেলের কল্যাণে প্রায়ই ভিনদেশী
আমার অবস্থাও তথৈবচ
ছেলে মেয়ের দৌলতে
মধ্যে মধ্যে আমিও ভিনপ্রদেশী,
ইচ্ছে থাকলেও দেখা হবার জো নেই।
মনে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো!
দ্বিধা নেই বলতে, আমি তোর বরিষ্ঠ,
গুটিকতক মেয়ের মধ্যে
তোর সঙ্গে সম্পর্কটাই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ,
বিশ্ববিদ্যালয়ে তোর নাম ইন্দ্রানী,
তোকে তোর ডাক নামে
খুকু বলে ডাকতাম আমি,
ডাকটা আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ডিঙিয়ে
অন্তরমহলে প্রবেশ করে
বাইরের  চৌকাঠ পেরিয়ে
মনের দরজায় এসে টোকা মারে,
বর্ষায় নদী উপচে  পড়ে
ডাকে এসে ভালোবাসার বান,
তুইও আমাকে ডাক নামে
পিন্টু বলেই ডাকিস,
ডাকটাই বলে দেয় সম্পর্কের টান;
মনে পড়ে সেকালে ঢি ঢি পড়ে যায়,
কোন ছেলের সঙ্গে মেয়ের বন্ধুত্বে,
অনেকে ভাবতো---- ডালমে কালা হায়!
ছি: ছি: সেম সেম !
আমি বোধহয় তোর প্রেমে মজেছি,
হ্যাঁ প্রেমতো বটেই,
বন্ধুত্বই আমার  প্রেম।

তুই তখন  বরোমাল্য হাতে
আমাকে জানিয়ে গেলি বলে
খুঁজে পেয়েছিস মনের মানুষ
খুশি আমার উপচে পড়ে
তবে আমার মাথা ব্যাথা
তোদের সব যেন ঠিকঠাক চলে,
আমিও নিশ্চিন্ত বিয়েটা হলে।
তারপর বিয়ে করলি সংসার পাতলি
আর আমিতো ব্যান্ডুলে
অশান্ত জীবন আমার
না আছে চাল না আছে চুলো  
পথের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে খুঁজে ফিরি
পিঠে বেঁধে কুলো;
যাই হোক, আমারও একটা হিল্লে হলো
অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সংসার।

আজ প্রায় ষাট বছর পাড়,
দুজনেরই বার্ধক্যের এই বেলা
ঘুরে ফেরে জীবনের পারাপার
দেখা হলে ফিরে যাই যৌবনের ঘরে
অতীতের সন্ধানে
সেদিনের কত কথা মনে পড়ে
আজ সে সবের স্মৃতি চারণে
অতীত সন্ধানী আমি
স্মৃতির দরজা খোলে মিললে দুজনে
বন্ধুত্বটা আরও নিবিড় হয়ে ওঠে,
বন্ধুত্বের সেই নিবিড়তায়
নীরব স্মৃতির বার্তা বয়ে চলে
স্মৃতির ডিঙ্গা বায় ফল্গুধারায়
সৌরভ ছড়ায় বাতাসে
পরস্পরের ভালোবাসার অঙ্গনে
ছেলে মেয়ে বিভেদের বেড়া ডিঙিয়ে
ডানা মেলে আকাশে।

No comments:

Post a Comment