Friday, October 12, 2018

কে স্বার্থপর - শ্যামল কুমার রায় , সহ শিক্ষক,


              
talkontalk.com
বুদ্ধের ঐ কথাটা আজও কানে বাজে -
'নিজেকে ভালোবাসা স্বার্থপরতা নয় যে ।'
তাহলে কিসের স্বার্থপরতা? কে স্বার্থপর ?
পশুরা তো লড়াই করে বাঁচার জন্য ।
ওটা লড়াই না খাদ্য শৃঙ্খল ?
যোগ্যতমই যে টিকে থাকবে ধরাতে, 
ডারউইনের মতবাদে সত্যতা আছে যে তাতে ।
জগতের সবই তো ঈশ্বরের ঐশ্বর্যের প্রকাশ, 
তাহলে আমার আমার করাই  তো অজ্ঞতারই প্রকাশ ।
জগতটাকে তো ভাগ বাটোয়ারা করল সমাজবদ্ধ  মানুষে ।
'স্বার্থপর , নিঃস্বার্থ ' - সব মতবাদেই তো পুঁজিবাদীদের  আধ্যিপত্য ।
সভ্যতার একদম শুরুর দিকে, বাহুবলীরা রইল টিকে ।
দখল নিয়ে সব সম্পদের, চোর সাধু আজ হল বটে। 
কেড়ে নিয়ে প্রলেতারিয়েতের অধিকার -
বাঁচা হয়ে গেল গরীবের দুষ্কর ।
নিজের ভালো বুঝতে গেলে , 
তাড়িয়ে দিলে স্বার্থপর বলে।
গর্জে ওঠো যদি শোষণের বিরুদ্ধে ,
রে রে করে আসবে তেড়ে।
স্বার্থপরতা আছে যে রক্তে - 
আদি অনাদি কাল হতে আজ পরিনত হয়েছে পাকাপোক্ত অভ্যেসে।
স্বার্থপরতার কারণ ও ফলের মৌলিকত্ব আছে, 
সময়ের সাথে সাথে শুধু খোলসটাই যা বদলেছে ।
বৃহত্তর জগতের স্বার্থপরতার ছাপ , 
 প্রকট হয়েছে সমাজে - সংসারে ।
আমিত্বের নেশাতে যে মত্ত সবাই, 
আত্মসুখেতেই নজর যে তাই।
কিন্তু, কোনোদিন কি ঘটবে না? -
পশুত্বের মনুষ্যত্বে আর মনুষ্যত্বের দেবত্বে উত্তরণ !
শুনবে না কি মানুষ নিবেদিতার সেই কথা -
' মানুষ হও, মানুষের মত আচরণ করো।'
বাড়িয়ে দেবে না কি সাহায্যের হাত 
আর্ত , নিপীড়িতের দিকে ?
স্বামীজির কথা কবে সত্যি হবে ? 
শিব জ্ঞানে জীব সেবায় মানুষ ব্রতী হবে !
ঘর থেকেই শুরু হোক স্বার্থপরতার নাশ, 
গড়ে উঠুক সহনশীলতার অদ্ভুত অভ্যাস ।
হিংসা, রেষারেষি যাক কমে ,
পরার্থপরতার হোক বিকাশ।
ঠাকুরের অভয় বাণী শুনেছো কি তুমি? 
' আমি মলে ঘুচিবে জঞ্জাল । '
ক্ষুদ্র স্বার্থ হোক বিপন্ন, 
বৃহত্তর স্বার্থ যেন না হয় পণ্য ।
হোক তবে স্বামীজির বাণীর প্রতিধ্বনি -
' অন্যের উপকার করা মানে তো ঘুর পথে নিজেরই উপকার করা ।'
ঘোর লেগে রয়েছে দু চোখেতে, 
নতুন ভোরের অপেক্ষাতে ।
স্বার্থপরতার হোক নাশ ।
সভ্যতার হোক বিকাশ, 
গুহা মানবের হানাহানি আর দুষ্মনী, 
 ফ্ল্যাট মানবের একা একা থাকার অভ্যেসখানি , 
সুস্থতার পরিচয় নয় কো মোটে ।
'সকলের তরে সকলে আমরা' 
বাঁচতে শিখব যেদিন আমরা, 
স্বার্থপরতা যাবে চলে, 
মিলেমিশে থাকব সকলে।